অকাল বর্ষায় ভেঙে গেল ১০ বছরের রেকর্ড! রাজ্যজুড়ে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস, গরম আবার আসছে কবে?

ভরা বৈশাখে যখন তীব্র গরমের দাপট থাকার কথা, তখনই সম্পূর্ণ উল্টো ছবি দেখছে পশ্চিমবঙ্গ। মে মাসের শুরুতেই রাজ্যজুড়ে এক অস্বাভাবিক ও শীতল আবহাওয়া বিরাজ করছে, যা বিগত ১০ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ১লা মে ছিল মে মাসের শীতলতম রাত। তাপমাত্রা এতটাই কম যে রাতে ফ্যান চালানোর কথা ভাবাই যাচ্ছে না, বরং গায়ে চাদর দিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে অনেককে।

১লা মে রাজ্যজুড়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। সারাদিন আকাশ মেঘলা থাকার পরে বিকেলের পর ঝমঝমিয়ে নেমেছে বৃষ্টি, যা গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও আবহাওয়াকে করে তুলেছে মনোরম।

২রা মে-তেও আবহাওয়া অনেকটা একইরকম। সকাল থেকেই আকাশ একেবারে মেঘলা, তেমন রোদ ওঠেনি। আজও রাজ্যজুড়ে ঝড় জলের পূর্বাভাস রয়েছে। ২রা মে-তে বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও উত্তরবঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামীকাল, অর্থাৎ ৩রা মে-তেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা অব্যাহত থাকবে। পশ্চিমবঙ্গের সব জেলাগুলিতেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

বলতে গেলে গ্রীষ্মকালেও এক্কেবারে নেমে এসেছে অকাল বর্ষা, চেনা গরম হুট করে উধাও হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যের সর্বোচ্চ শিখর সান্দাকফুতেও পড়ছে বরফ, যা এই সময়ের জন্য সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক। দীর্ঘ ১০ বছর পরে গরমের মরশুমে এমন শীতল আবহাওয়া দেখছে রাজ্যবাসী। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আবহাওয়া কতটা বদলাবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেয়নি আবহাওয়া দফতর। এই অস্বাভাবিক আবহাওয়া রাজ্যের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাভাবিক কাজকর্মকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত করছে।