বিয়ের জন্য প্রেমিকের বাড়ির সামনে ধরনা, শেষমেশ গলাই কেটে ফেললেন তরুণী!

মুর্শিদাবাদের ডোমকল এলাকা সাক্ষী রইল এক মর্মান্তিক ঘটনার, যা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলে। বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ির সামনে ধরনায় বসেছিলেন এক তরুণী, কিন্তু প্রেমিকের চরম প্রত্যাখ্যান এবং পরবর্তী ঘটনার জেরে প্রকাশ্য দিবালোকেই তিনি নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এই দৃশ্য দেখে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশ তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ডোমকল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানেই বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। তবে এই ঘটনার মধ্যে আরও একটি তথ্য সামনে এসেছে – যে তরুণী এমন চরম পথ বেছে নিয়েছেন, তিনি নাকি ইতিমধ্যেই বিবাহিত।

ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার রাতে ডোমকল থানার ভগীরথপুর এলাকায়, যার রেশ দেখা যায় বৃহস্পতিবার দিনের বেলায়। ডোমকলের ওই তরুণীর দাবি, এলাকার এক যুবকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক কেবল দেখা সাক্ষাৎ বা সিনেমা দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অভিযোগ, তাঁরা বিভিন্ন হোটেলে গিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও স্থাপিত হয়েছিল। এমনকি কিছুদিন আগে তিনি অন্তঃসত্ত্বাও হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু প্রেমিক এবং তার পরিবার তাঁকে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ। এতকিছুর পরেও ওই যুবক তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন।

প্রেমিকের এই প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে না পেরে সুবিচার চেয়ে প্রথমে ডোমকল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণী। কিন্তু তাতেও যখন কোনো কাজ হলো না এবং বিয়ের ব্যাপারে যুবক রাজি হলো না, তখন তিনি সরাসরি ওই যুবকের বাড়ির সামনে বিয়ের দাবিতে ধরনায় বসেন। তাঁর অভিযোগ, ধরনায় বসলে যুবকের পরিবারের সদস্যরা উল্টে তাঁকে মারধর করে এবং সেখান থেকে জোর করে তাড়িয়ে দেয়। এই চরম অপমান এবং মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে এবং তীব্র হতাশায় তিনি সেখানেই সকলের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং হাতের কাছে থাকা ধারালো কিছু দিয়ে নিজের গলা কেটে ফেলার চেষ্টা করেন।

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে বা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই তরুণী বারবার একই কথা বলেছেন। তাঁর কথায়, “ওই ছেলের সঙ্গে আমার প্রায় এক বছরের সম্পর্ক ছিল। ও আমাকে ওদের বাড়িতেও নিয়ে গিয়েছিল। আমার কাছ থেকে টাকাও নিয়েছে, প্রায় ৫০ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলাম ওকে। আমার পেটে বাচ্চাও এসেছিল, ও জোর করে নষ্ট করে দেয়। এতকিছুর পরও যখন বিয়ের জন্য রাজি হয়নি, আমি বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তার পরেও বিয়েতে রাজি হয়নি। আমার এই অবস্থার পর ওদের পরিবারের সবাই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত যুবকের মা এই ঘটনার পর সামনে এসে সমস্ত অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর ছেলেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে এবং এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

ঘটনার গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে ডোমকল থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তরুণীর অভিযোগ, যুবকের পরিবারের বক্তব্য এবং এলাকার মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই ঘটনার পিছনে আসল কারণ কী এবং তরুণীর অভিযোগ কতটা সত্য, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও কেন ওই তরুণী এই সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এবং কী পরিস্থিতিতে তিনি এমন চরম পথ বেছে নিলেন, তাও তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করার পাশাপাশি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আসল সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকা।