“র্যাঙ্ক করব কোনও দিনই ভাবিনি”, মাধ্যমিকে 4th হয়ে মহম্মদ সেলিম চাকারিহারা শিক্ষকদের নিয়ে যা বললেন

পরিবারের সদস্যরা যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় তাঁদের ছেলে এত ভালো ফল করেছে! খুশির জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে গোটা পরিবার। চতুর্থ স্থানাধিকারী মহম্মদ সেলিমের সাফল্যে গর্বিত তাঁরা।
পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম নিরল হাইস্কুলের ছাত্র মহম্মদ সেলিম মাধ্যমিকে ৬৯২ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মধ্যে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে। সেলিম নিজেই জানিয়েছে, “আমি কখনও ভাবিনি যে র্যাঙ্ক করব। আমি শুধু নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছি। টিভিতে যখন আমার নাম শুনলাম, আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।”
এই অভাবনীয় সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই, সেলিমের বাড়িতে যেন উৎসবের আমেজ। গোটা গ্রাম এসে হাজির হয়েছে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে। কেউ মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন, কেউ ছবি তুলছেন। সেলিমের এই সাফল্যে আপ্লুত গ্রামবাসী।
সেলিম তার এই সাফল্য তার মামাকে উৎসর্গ করতে চায়। পাশাপাশি, স্কুলের শিক্ষকেরা যেভাবে তাকে সাহায্য করেছেন, সে কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছে।
ঘটনার আকস্মিকতায় এখনও যেন ঘোর কাটেনি সেলিমের। সে জানায়, “আমি তখন ভাত খাচ্ছিলাম। টিভিতে হঠাৎ শুনি আমার স্কুলের নাম ঘোষণা করছে। তারপর আমার নাম। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি।”
তবে, এই আনন্দের মধ্যেও সেলিমের মনে একটি চাপা দুঃখ রয়েছে। সে জানায়, “আমাদের স্কুলের দুজন শিক্ষক ছিলেন, যাঁরা খুব ভালো পড়াতেন। তাঁদের চাকরি চলে যাওয়ার খবরটা আমার একেবারেই ভালো লাগেনি। এটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।”