‘বিদায় হয়েছে, ভাল হয়েছে’- দিঘা সফরের পর দিলীপকে তীব্র আক্রমণ তথাগত রায়ের

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর পাশে দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি নিয়ে বিজেপির অন্দরে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। দলেরই একাংশের সমালোচনার মুখে পড়া প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিকে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির আর এক প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায়। দিলীপ ঘোষকে রাজ্য সভাপতি করাটা তাঁর মতে ‘মারাত্মক ভুল ছিল’।

গত ৩০ এপ্রিল (বুধবার) দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে জগন্নাথের দর্শন সারেন তিনি। সেখানেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁকে এক ফ্রেমে দেখা যায় এবং দুজনের মধ্যে সৌজন্যমূলক কথোপকথনও হয়। এই ঘটনার ছবি প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ ও বিতর্ক শুরু হয়। একাংশ নেতা ও কর্মী দিলীপের সমালোচনা করেন।

এই পরিস্থিতিতে আজ সকালে তথাগত রায় তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে দিলীপ ঘোষকে সরাসরি নিশানা করেন। তিনি লেখেন, “দিলীপ বাবাজীবনের সুখী সমৃদ্ধ বিবাহিত জীবন কামনা করি। টাকার তো অভাব নেই! কেবল আমরা যেন একই ভুল আর না করি।” এই ‘ভুল’ বলতে তিনি দিলীপ ঘোষকে রাজ্য সভাপতির পদে বসানোকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

তথাগত রায় তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, “পি এইচ-ডি হবার দরকার নেই, কিন্তু ন্যূনতম শিক্ষাদীক্ষাটুকু প্রয়োজন। তা ছিল না বলেই দিলীপ ঘোষকে রাজ্য সভাপতির মত উচ্চপদে বসানো মারাত্মক ভুল হয়েছিল।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর দিলীপ ঘোষের ‘মাথা ঘুরে গিয়েছিল, ধরাকে সরা ভাবতে শুরু করেছিল’। পাশাপাশি তিনি বলেন, দিলীপ ঘোষের হীনমন্যতাও ছিল, তাই নির্বাচনী এফিডেভিটে তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্বন্ধে মিথ্যাকথা লিখেছিলেন, যা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

দিলীপ ঘোষের ভাষা এবং অতীতের কিছু মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তথাগত রায়। তিনি দাবি করেন, একটি বেসরকারি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারীদের সম্বন্ধে অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে বলেছিলেন যে তারা দেশকে ‘পেচ্ছাব-পাইখানা’ (এই ভাষাতেই) ছাড়া কিছু দেন নি।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সাফল্য সত্ত্বেও সেই বছরই তিনটি উপনির্বাচনে বিজেপির শূন্য প্রাপ্তির প্রসঙ্গ টেনে তথাগত রায় লেখেন, এই সময়ে ‘কামিনীকাঞ্চন-আসক্ত এক শিম্পাঞ্জির মত দেখতে বিজেপি নেতার কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ায় দিলীপের সুবিধা হয়েছিল।’ এটি ছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং কুরুচিপূর্ণ আক্রমণ, যা বিজেপির অন্দরের অন্তর্দ্বন্দ্বকেই স্পষ্ট করে তোলে।

তথাগত রায় আরও অভিযোগ করেন যে, একটি পত্রিকার নামোল্লেখ করে দিলীপ ঘোষ নিজেকে ভাবী মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দিয়েছিলেন এবং দপ্তর বন্টনও করে ফেলেছিলেন। এরপর হেরে যাবার পরে যখন বিজেপি কর্মীরা বেধড়ক মার খেতে লাগল, তখন দিলীপ ঘোষ নিজে দশ জন রক্ষীবেষ্টিত হয়ে তাদের জ্ঞান দিতেন বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

দিলীপ ঘোষের দিঘা ভ্রমণকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরে যে ফাটল তৈরি হয়েছে, তথাগত রায়ের এই আক্রমণ তাতে নতুন মাত্রা যোগ করল। তাঁর মন্তব্য কেবল দিলীপ ঘোষের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক জীবন, যোগ্যতা এবং অতীত নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এটি স্পষ্ট যে, রাজ্য বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে চলে আসছে এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ রাজনৈতিক বিতর্কের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।