বিশেষ: বাবার পরিচয় লুকিয়েই করেছিলেন বলিউডে যাত্রা, কিভাবে সিনেমায় সুযোগ পান শাহিদ!

বলিউডের জনপ্রিয় তারকা শাহিদ কাপুর ‘কবীর সিং’, ‘জব উই মেট’, ‘জার্সি’ এবং ‘হায়দার’-এর মতো দুর্দান্ত ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন। ২০০৩ সালে ‘ইশক ভিশক’ দিয়ে শুরু হওয়া তার অভিনয় জার্নি আজও অব্যাহত।
কিন্তু কি জানেন, শুরুতে তিনি ‘শাহিদ খট্টর’ নামে পরিচিত ছিলেন!
‘আঁখো মে তেরা হি চেহরা’ মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি পরিচালক রমেশ তৌরানির নজরে আসেন। মাত্র ১৭-১৮ বছর বয়সী শাহিদের অভিনয় দেখে রমেশ বুঝতে পারেন, এই ছেলেটি দীর্ঘদিন বলিউডে টিকে থাকবে।
রমেশ তৌরানি নিউজ ১৮ কে জানান, তিনি তখন জানতেন না যে শাহিদ অভিনেতা পঙ্কজ কাপুরের ছেলে। কারণ, শাহিদ তখন ‘খট্টর’ উপাধি ব্যবহার করতেন। রমেশ আরও বলেন, “মিউজিক ভিডিওটি দেখে আমি আমার টিমকে বলেছিলাম, ‘যখনই সুযোগ পাবে এই ছেলেটির সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিতে।’”
প্রায় দেড় মাস পর শাহিদ রমেশের সাথে দেখা করতে আসেন। দেখা করে রমেশ শাহিদকে উৎসাহ দেন এবং বলেন, “তুমি খুব ভালো অভিনেতা হতে পারো। তবে তোমাকে দেখতে অনেক কম বয়সী লাগছে, তাই আরও অপেক্ষা করা উচিত। তবে তুমি একটা ভালো সুযোগ পাবে।”
তারপর থেকে শাহিদ প্রতি তিন মাস অন্তর রমেশের সাথে যোগাযোগ করতেন। রমেশকে জানান ‘স্টাইল’ নামে একটি ছবির প্রস্তাব পেয়েছেন। রমেশ তাকে ছবিটি করার পরামর্শ দেন। কিন্তু শাহিদ দুই নায়কের ছবিটি করতে অস্বীকার করেন।
কয়েক বছর পর রমেশ ‘ইশক ভিশক’ ছবির জন্য অভিনেতা খুঁজছিলেন। শাহিদের কথা মনে পড়ে তিনি তাকে ছবিতে নায়কের ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য বেছে নেন। রমেশ বিশ্বাস করতেন, শাহিদের সহজ-সরল ব্যক্তিত্ব এবং নির্দোষ চেহারা এই চরিত্রের জন্য উপযুক্ত।
‘ইশক ভিশক’-এর গল্পের কথা স্মরণ করে রমেশ বলেছিলেন, ‘এটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আমার মনে হয়েছিল যে শাহিদই এটার জন্য সঠিক নায়ক হবেন। আমি শাহিদের মধ্যে যা দেখেছি, ও খুবই সহজ-সরল। আপনি যখন একজন নায়ককে কাস্ট করেন তখন তার মধ্যে এই গুণগুলো থাকা উচিত। আপনি যদি মনোযোগ দেন, আপনি দেখতে পাবেন যে শুধুমাত্র নির্দোষ চেহারার অভিনেতারাই ইন্ডাস্ট্রিতে সফল। সেটা সলমান খান হোক বা অজয় দেবগন।
আজ শাহিদ কাপুর বলিউডের একজন সফল তারকা। রমেশ তৌরানির দৃষ্টিভঙ্গি এবং শাহিদের প্রতিভা একসাথে মিলে তৈরি করেছে এই অসাধারণ অভিনেতাকে।