অল্প সময়েই পৌঁছনো যাবে কলকাতা, এবার নতুন রুটে চলবে ‘ট্রেন’, হাইকোর্টের নির্দেশে খুশি আমজনতা !

দীর্ঘদিন ধরে জমি জটের কারণে থমকে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পের কাজ শুরু করার বিষয়ে বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত রাজ্য সরকার এবং রেল দফতরকে আগামী ৪ মাসের মধ্যে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন করে দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই রায়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার আমজনতা ও নাগরিক মঞ্চে খুশির হাওয়া।

যে রেল প্রকল্পটির কাজ জমি সমস্যার কারণে আটকে ছিল, সেটি হলো কুলপি-ডায়মন্ড হারবার-গুরুদাস নগর, এরপর গুরুদাস নগর হয়ে বাখড়াহাট এবং সেখান থেকে পূজালি ভায়া উলুবেড়িয়া পর্যন্ত বিস্তৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রভূত সুবিধা হবে।

জানা যাচ্ছে, এই রেল প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিতে রেলমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে, রেল মন্ত্রক এই কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করতে ইচ্ছুক, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রয়োজনীয় জমি প্রদান না করায় প্রকল্পটি আটকে রয়েছে। অভিযোগ, কেন্দ্রের অনুরোধ সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের তরফে জমি অধিগ্রহণের কাজে তেমন কোনো গতি আসেনি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

বাখড়াহাট নাগরিক মঞ্চের পক্ষ থেকে রাম রাবণ পাল নামের একজন ব্যক্তি এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তিনি উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন।

সেই মামলার শুনানিতেই এবার বিচারপতি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৪ মাসের মধ্যে রাজ্য এবং রেল দফতরকে যৌথভাবে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। একই সঙ্গে, অবিলম্বে রেলের নির্মাণ কাজ শুরু করারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। আদালতের এই রায়ে বাখড়াহাট নাগরিক মঞ্চ এবং স্থানীয় মানুষজনের মুখে হাসি ফুটেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, এই রেলপথ তৈরি হলে তাঁরা অনেক কম সময়ে এবং কম খরচে কলকাতা সহ অন্যান্য গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

তবে এই রায় ঘিরে একটি প্রশ্নও অনেকের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। বছর দুয়েক আগে কেন্দ্রের রেলমন্ত্রী স্বয়ং চিঠি দিয়ে জমি সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছিলেন, তা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করেনি। এবার কলকাতা হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশ আসার পর কি সেই কাজ দ্রুত শুরু হবে? আদালতের নির্দেশ কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই রেল প্রকল্প এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাইকোর্টের এই নির্দেশ প্রকল্পের বাস্তবায়নের একটি নতুন দিশা দেখালেও, শেষ পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ এবং প্রকল্পের কাজ কত দ্রুত শুরু হয়, তার উপরেই নির্ভর করছে মানুষের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ।