“আমি পোপ হতে চাই, এটি হবে আমার….!”-জেনেনিন কেন এই ইচ্ছের কথা জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

ক্যাথলিক চার্চের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু কে হবেন, এই প্রশ্ন যখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনায় (যেমনটা প্রশ্নে উল্লেখিত পরিস্থিতি অনুযায়ী), তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অপ্রত্যাশিত এবং মজার মন্তব্য করে বসেছেন। পরবর্তী পোপ হিসেবে তিনি কাকে দেখতে চান – স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নিজেকেই সেই পদে বসানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তবে তা ছিল স্পষ্টতই হালকা চালের একটি রসিকতা।

মঙ্গলবার এই প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প হেসে বলেন, “আমি পোপ হতে চাই। এটি হবে আমার এক নাম্বার চয়েজ।” তবে মজার ছলে এই মন্তব্য করার পরই তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, আসলে এ ব্যাপারে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে কোনো পছন্দের কার্ডিনাল নেই। কিন্তু নিউইয়র্কে একজন খুব ভালো কার্ডিনাল আছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, “দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়।”  

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মন্তব্য মজার ছলে করলেও বাস্তবতা হলো, তিনি চাইলেও কখনো পোপ হতে পারবেন না। এর পেছনে ক্যাথলিক চার্চের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। প্রথমত, যিনি পোপ নির্বাচিত হন, তাঁকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হয় এবং সম্পূর্ণভাবে চার্চের সেবায় জীবন উৎসর্গ করতে হয়। ট্রাম্প তিনবার বিয়ে করেছেন, যা তাঁকে এই পদের জন্য নিয়ম অনুযায়ী অযোগ্য করে তোলে। দ্বিতীয়ত, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম একটি দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর দায়িত্ব এবং পোপের পদের বিশাল দায়িত্ব ও ব্যস্ততা একেবারেই ভিন্ন প্রকৃতির এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

প্রসঙ্গত, বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, নিউইয়র্কে তিমোথি ডোলান নামে একজন কার্ডিনাল আছেন, ট্রাম্প সম্ভবত তাঁর কথাই উল্লেখ করেছেন। তবে পরবর্তী পোপ নির্বাচনের যে সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে তাঁর নাম নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই তালিকায় একজন আমেরিকান কার্ডিনাল রয়েছেন। তিনি হলেন জোসেফ তোবিন, যিনি বর্তমানে নিউজার্সির আর্চবিশপের দায়িত্ব পালন করছেন। ঐতিহাসিক ভাবে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেউই পোপ হতে পারেননি।  

সূত্র অনুযায়ী, (যেমনটা প্রশ্নে উল্লেখিত পরিস্থিতি অনুযায়ী) পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর গত সপ্তাহে ট্রাম্প স্ত্রী ম্যালেনিয়াকে নিয়ে ভ্যাটিকান সিটিতে গিয়েছিলেন এবং তাঁর শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছিলেন। ক্যাথলিক চার্চের পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে কিছুটা কৌতুক তৈরি করেছে।