পুরী নয়, দিঘার জগন্নাথ ধামে বাংলার যুবক-কর্নাটকের প্রৌঢ় ! সাইকেল চালিয়ে এলেন দেবের দর্শনে

পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘায় আজ অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্য তিথিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত জগন্নাথ ধামের প্রাণ প্রতিষ্ঠা। উৎসবের এই আবহে বহু ভক্ত এবং দর্শনার্থী জড়ো হয়েছেন সৈকত শহরে। তবে এই বিপুল জনসমাগমের মধ্যে নজরে এসেছেন দুই ব্যতিক্রমী মানুষ – যারা সাইকেল চালিয়ে এসেছিলেন পুরীর জগন্নাথ দেবের দর্শনে, কিন্তু এখন তারা দিঘার এই ঐতিহাসিক মন্দির উদ্বোধনের সাক্ষী হতে উপস্থিত। বাংলার এক যুবক এবং কর্ণাটকের এক প্রৌঢ়ের এই কাহিনী যেন মেলাল পশ্চিমবঙ্গ ও কর্ণাটককে।

কর্নাটকের হাসানের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী নাগরাজ গৌড়া এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নিমতৌড়ির বাসিন্দা যুবক প্রশান্ত সামন্ত – এই দুজনই জগন্নাথ দেব দর্শনের অদম্য ইচ্ছে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন সাইকেল সঙ্গী করে। তাদের মূল গন্তব্য ছিল পুরী শ্রীক্ষেত্র ধাম।

নাগরাজ গৌড়া একজন ব্যতিক্রমী অভিযাত্রী। ২০১৭ সালে শান্তি, সৌভ্রাতৃত্ব এবং পরিবেশরক্ষার বার্তা নিয়ে তিনি সাইকেলে করে দেশ পরিভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই তিনি ভারতের ২৭টি রাজ্য ঘুরেছেন। পথিমধ্যে করোনা অতিমারীর কারণে তার যাত্রায় প্রায় দেড় বছর বিঘ্ন ঘটেছিল। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ঘুরতে ঘুরতে তিনি সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুরে পৌঁছেছিলেন। সেখান থেকে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে বালেশ্বর হয়ে পুরী যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। সেই মতো যাত্রাও শুরু করেছিলেন। কিন্তু ওড়িশার জলেশ্বরে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন যে দেশের দ্বিতীয় জগন্নাথ মন্দিরটি দিঘায় নির্মিত হয়েছে এবং আজ শুভ অক্ষয় তৃতীয়ায় তার উদ্বোধন হতে চলেছে। এই খবর শুনে তিনি মনস্থির করেন, পুরী যাওয়ার আগে দিঘার এই ঐতিহাসিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাক্ষী হয়ে যাবেন।

অন্যদিকে, পেশায় ওয়েল্ডার অপারেটর নিমতৌড়ির যুবক প্রশান্ত সামন্ত শেষ সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে পুরীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। ওড়িশার চন্দনেশ্বরের কাছে নাগরাজ গৌড়ার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। দুই জগন্নাথ ভক্ত সাইকেল অভিযাত্রীর মধ্যে সেখানেই গড়ে ওঠে সখ্যতা। নাগরাজ গৌড়ার দিঘা যাওয়ার পরিকল্পনা শুনে প্রশান্তও তাঁর সঙ্গী হয়ে চলে আসেন দিঘা।

গন্তব্য পুরী হলেও, আপাতত এই দুই সাইকেল অভিযাত্রী দিঘায়। তারা আজ জগন্নাথ ধামের পবিত্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে চান। বুধবার বিগ্রহের প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর তারা দিঘাতেই জগন্নাথ দেবের দর্শন করবেন বলে মনস্থির করেছেন। যুবক প্রশান্ত সামন্তের একটি বিশেষ প্রার্থনা রয়েছে প্রভু জগন্নাথ দেবের কাছে – তিনি আশা করেন এ বছর আইপিএল ট্রফি যেন বিরাট কোহলির হাতে আসে। এর পাশাপাশি তিনি পরিবেশরক্ষার বার্তা নিয়ে গাছ লাগানোর প্রচারও করছেন।

দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের এই উদ্বোধন অনুষ্ঠান যেন পশ্চিমবঙ্গ ও কর্ণাটকের এই দুই ভিন্ন প্রান্তের অভিযাত্রীকে এক সূত্রে বেঁধে দিল। আজ উদ্বোধন পর্ব শেষে বাংলা ও কর্ণাটকের এই দুই সাইকেল অভিযাত্রী পুনরায় তাদের যাত্রা শুরু করবেন নীলাচলের পথে। দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের মাহাত্ম্যের কথাও তারা পথ ও পথিকের মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন।