OMG! ধারালো বঁটি দিয়ে স্ত্রীকে গলা কেটে খুন, থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করলো স্বামী

স্ত্রীর সঙ্গে বচসার চরম পরিণতি! ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রীকে খুন করে সরাসরি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করল এক স্বামী। চাঞ্চল্যকর এবং মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরপুটি তলা এলাকায়। মৃত গৃহবধূর নাম শ্রাবণী সরকার এবং অভিযুক্ত স্বামীর নাম বুদ্ধদেব সরকার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। দম্পতির একমাত্র নাবালিকা কন্যা, যে দশম শ্রেণির ছাত্রী, সেই সময় প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল। বাড়িতে শ্রাবণী দেবী একাই ছিলেন। অভিযোগ, ঠিক সেই সময়ই স্বামী বুদ্ধদেব সরকারের সঙ্গে তাঁর কোনও বিষয় নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। বচসা চলাকালীনই বুদ্ধদেব সরকার আচমকা ধারালো বঁটি দিয়ে স্ত্রীর গলায় একাধিক কোপ বসিয়ে দেন।

এই ভয়াবহ হামলায় শ্রাবণী দেবীর সারা ঘরে রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত বুদ্ধদেব সরকার নিজেই শান্তিপুর থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং ঘটনার কথা স্বীকার করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত বুদ্ধদেব সরকার জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। নিয়মিত জুয়া খেলার কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই অশান্তি লেগে থাকত। এর আগেও বেশ কয়েকবার জুয়ায় হেরে গিয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, জুয়া সংক্রান্ত বিবাদ বা অন্য কোনো কারণে চরম হতাশা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

এদিকে, মৃত দম্পতির নাবালিকা কন্যা এই ঘটনায় সম্পূর্ণ হতবাক। সে জানিয়েছে, “আমার বাবাই এই কাজটা করেছে। যে এতটা হিংস্র হতে পারে, আমি চাই তার ফাঁসি হোক। সে বেঁচে থাকুক আমি সেটা চাই না।” মেয়েটি আরও জানায় যে তাদের বাবা-মায়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো, তবে ঠিক কী কারণে ঝগড়া হতো তা সে স্পষ্টভাবে জানে না।

খবর পেয়ে শান্তিপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশ অভিযুক্ত বুদ্ধদেব সরকারকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। কী কারণে এই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড ঘটল, তার পেছনে আসল কারণ কী, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।