পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় তোলপাড় গোটা দেশ ! কাশ্মীরে হামলাকারী জঙ্গি আসলে পাক সেনার সদস্য?

জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় গত মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসী হত্যাকাণ্ডে পাকিস্তানের যোগ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। এই হামলার অন্যতম মূলচক্রী বা মাস্টারমাইন্ড হাসিম মুসা আদতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীরই সদস্য ছিলেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তাকে ‘ফৌজি’ নামেই ডাকা হত। পহেলগাঁও হামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই পাকিস্তানের জড়িত থাকার প্রমাণ আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পহেলগাম হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্যতম মূলচক্রী হিসেবে উঠে এসেছে হাসিম মুসা নামের এক জঙ্গির নাম। ঐ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হাসিম মুসা আগে পাকিস্তানের স্পেশ্যাল ফোর্সের প্যারা কম্যান্ডো ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার একজন সক্রিয় অপারেটিভ। রিপোর্ট বলছে, হাসিম মুসাকে জম্মু-কাশ্মীর পাঠানো হয়েছে একটি নির্দিষ্ট ‘টাস্ক’ বা গোপন অভিযান সম্পন্ন করার জন্য। নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় নয় এমন মানুষদের খুন করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। তদন্তে আরও পরিষ্কার হয়েছে যে, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানি সেনা ও আইএসআইয়ের সরাসরি প্রভাব ছিল।
জানা যাচ্ছে, পাক সেনার বিশেষ সার্ভিস গ্রুপের প্যারা কম্যান্ডোরা অত্যন্ত উচ্চ প্রশিক্ষিত জওয়ান হন। গোপন অপারেশনের জন্য তাঁদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি, শারীরিক ও মানসিক কষ্ট সহ্য করা, খালি হাতে লড়াই থেকে আধুনিক নানান অস্ত্র ব্যবহার, সবকিছুর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তাঁদের। হাসিম মুসার এমন প্রশিক্ষণ এই হামলায় তার ভূমিকার গুরুত্ব বাড়িয়ে তোলে।
ঐ একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবারের জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ১৫ জন সন্দেহভাজন কাশ্মীরিকে আটক করেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ঐ কাশ্মীরিদের সঙ্গে পাক জঙ্গিদের যোগাযোগ ছিল এবং তারাই হামলাকারীদের আনুষাঙ্গিক নানান সাহায্য করেছিল। তাঁদের জেরা করেই মূল হামলাকারীদের একজন, হাসিম মুসার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে বলে খবর।
পাক সেনা, আইএসআই এবং বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির মধ্যে যোগাযোগের অভিযোগ আজকের নয়, দীর্ঘদিনের। সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট বলছে, ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিজেরাই হয়তো হাসিম মুসার মতো উচ্চ প্রশিক্ষিত জওয়ানদের লস্কর-ই-তৈবার মতো জঙ্গি সংগঠনগুলিতে ঢুকিয়ে দিয়েছে যাতে তারা ভারতের বিরুদ্ধে গোপন অভিযান চালাতে পারে।
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় তোলপাড় গোটা দেশ। ঐ ঘটনার পর অপরাধীদের রেহাই নেই, এ কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দোষীদের ‘শায়েস্তা’ করতে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই আবহেই হাসিম মুসার পরিচয় সামনে আসায় কাশ্মীর-কাণ্ডে পাক যোগের তত্ত্ব আরও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো। পহেলগাম হামলার তদন্তে এই নতুন তথ্য সামনে আসায় পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদে সরাসরি মদতের বিষয়টি আরও একবার আন্তর্জাতিক মহলের সামনে চলে এল।