ভারত ছাড়ছেন পাকিস্তানিরা ! চিকিৎসা চলাকালীন ভিসা বাতিল, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন এক মহিলা

মোদী সরকারের নির্দেশনায় পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তের জেরে এবার মেয়াদ শেষ হওয়ায় বহু পাকিস্তানি নাগরিককে ভারত ছাড়তে হচ্ছে। গতকাল রবিবারই সার্ক ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং আজ, ২৯ এপ্রিল, মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে মেডিক্যাল ভিসার মেয়াদ। এই আবহে আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার জন্য ভিড় বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর ভারতে অবস্থান করলে ঐ পাকিস্তানি নাগরিকদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারবে ভারত সরকার।

ভারত সরকারের নির্দেশ অনুসারে গত রবিবার সার্ক ভিসাধারী পাকিস্তানি নাগরিকদের ভারতে থাকার মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর আজ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে মেডিক্যাল ভিসাধারী পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ। এর আগে ভারত সরকার একটি নির্দেশ জারি করে নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রমী ভিসা ছাড়া পাকিস্তানের নাগরিকদের অন্যান্য সব ভিসা বাতিল করে দিয়েছিল। এই নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া পাকিস্তানি নাগরিকদের ভারত ছাড়তে হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর ভারতে অবস্থান করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে ভারত সরকার।

ভারত ছাড়ার বিষয়ে অনেক পাকিস্তানি নাগরিকই তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে ভেঙে পড়লেন এমন একজন পাকিস্তানি মহিলা জানান, তিনি মেডিক্যাল ভিসা নিয়ে পাকিস্তান থেকে ভারতে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু মাঝপথেই তাঁকে এভাবে চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে ফিরে যেতে হচ্ছে। চোখে জল নিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, “আমাদের কী দোষ?” তিনি বলেন, “ভারতে চিকিৎসার জন্য আসা। এখন মাঝপথে এভাবে চলে যেতে হচ্ছে। আমরা কী দোষ করেছি? এভাবে সমস্যার মুখে পড়তে হবে ভাবিনি।”

সীমান্তে দাঁড়িয়ে আর এক পাকিস্তানি মহিলা জানান, তিনি প্রায় দশ বছর আগে বিয়ে করে ভারতে এসেছেন এবং তখন থেকে দিল্লিতেই রয়েছেন। কোভিড-১৯ অতিমারীর সময় তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, তবে তাঁর কাছে ‘নোরি ভিসা’ (No Objection to Return to India) রয়েছে। তা সত্ত্বেও পহেলগাঁও হামলার কারণে তাঁকে সব ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে। ক্ষোভের সাথে তিনি প্রশ্ন করেন, “আমাদের কী দোষ? কেন আমাদের এই শাস্তি পেতে হল?”

ঐ মহিলার মতোই বিপাকে পড়েছেন সামরিন নামের আর এক পাকিস্তানি তরুণী। মাত্র ৪৫ দিনের ভিসা নিয়ে তিনি ভারতে এসেছিলেন এবং এখানে এক ভারতীয় যুবককে বিয়ে করে সংসার পাতেন। ভারতে পাকাপাকিভাবে থাকার জন্য তিনি দীর্ঘমেয়াদী ভিসার আবেদনও করেছিলেন, কিন্তু সেই ভিসা হাতে পাওয়ার আগেই সমস্ত ভিসা বাতিলের নির্দেশ দেয় ভারত সরকার। তাই সদ্য বিবাহিত স্বামী ও নতুন সংসার ছেড়েই তাঁকে নিজের দেশে পাকিস্তানে ফিরে যেতে হচ্ছে।

পহেলগাঁও হামলার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেকার উত্তেজনার বলি হচ্ছেন সামরিনের মতো বহু সাধারণ পাকিস্তানি নাগরিক, যারা মানবিক কারণে ভারতে ছিলেন বা এখানেই জীবন গড়ে তুলেছিলেন। আটারি সীমান্তে তাঁদের চোখে মুখে কেবল কষ্ট আর হতাশা।