প্রায় ৪৬ জন ছাত্রীর কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা লোপাট, অভিযোগ উঠল প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে!

রাজ্য সরকারের অন্যতম স্বপ্নের প্রকল্প কন্যাশ্রীতে এবার ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদহের মানিকচক ব্লকে। অভিযোগ উঠেছে, মানিকচক ব্লকের এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৪৬ জন ছাত্রীর কন্যাশ্রী প্রকল্পের প্রাপ্য টাকা লোপাট করা হয়েছে। এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এই দুর্নীতির অভিযোগের তীর সরাসরি এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক সুনন্দ মজুমদারের বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়, তিনি স্কুলের দায়িত্বের পাশাপাশি মানিকচক ব্লকের তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতিও ছিলেন। অভিযোগকারী ছাত্রীরা এবং স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত সুনন্দ মজুমদারের স্ত্রী আবার তৃণমূলেরই একজন পঞ্চায়েত প্রধান। ক্ষমতার অপব্যবহার করেই এই দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা থেকে বঞ্চিত ছাত্রীরা চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই মানিকচক ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল। কিন্তু প্রায় চার মাস কেটে গেলেও ছাত্রীরা তাঁদের প্রাপ্য টাকা ফেরত পাওয়া তো দূর অস্ত, অভিযুক্ত সহকারি প্রধান শিক্ষক সুনন্দ মজুমদার বা এই ঘটনায় যুক্ত অন্য কারোর বিরুদ্ধেই প্রশাসন কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করছেন বঞ্চিত ছাত্রীরা। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এই বিতর্কের মধ্যেই কন্যাশ্রী বঞ্চিত ছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)। এসএফআই এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে এই ঘটনার খবর পেয়ে মানিকচকে যান এবং বঞ্চিত ছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন। প্রথমে তিনি ছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি যান এবং তাদের সমস্যা ও হয়রানির কথা শোনেন। এরপর তিনি সরাসরি বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত সহকারি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। স্কুলের অফিসের দরজার সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বসে পড়েন তিনি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের গ্রেফতার ও ছাত্রীদের লোপাট হয়ে যাওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

এসএফআই এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “মেয়েদের হকের কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা চুরি করে পালিয়ে গিয়েছে তৃণমূল নেতা তথা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। আমরা আইনজীবীদের আইনি পরামর্শ অনুযায়ী হাইকোর্টে মামলা করব।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পুলিশ প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে এবং দোষীদের গ্রেফতার না করে, তাহলে আইনজীবীদের আইনি পরামর্শ নিয়ে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

কন্যাশ্রী বঞ্চিত ছাত্রী পায়েল খাতুন ঘটনার কথা বলতে গিয়ে জানান, “আমাদের হকের টাকা সহকারি প্রধান শিক্ষক সুনন্দ মজুমদার চুরি করেছে। প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। আমরা প্রশাসনের কাছে বারবার গিয়েছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আজ এসএফআই এর রাজ্য সম্পাদক এসেছিলেন। আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশে থাকবেন আশ্বাস দিয়েছেন।”

মুখ্যমন্ত্রীর অন্যতম জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে এমন ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ এবং অভিযুক্ত সহকারি প্রধান শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রীর রাজনৈতিক যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতা এবং নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এসএফআই-এর প্রতিবাদ এবং আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি এই মামলাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বঞ্চিত ছাত্রীরা দ্রুত তাদের টাকা ফেরত এবং অভিযুক্তদের শাস্তি চেয়েছেন।