কাশ্মীরের একাধিক রিসর্টে তালা, বন্ধ বহু ট্যুরিস্ট স্পট, শিগ্রই শুরু সেনা অপারেশন?

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে ঘটে যাওয়া ভয়ানক জঙ্গি হামলার পর থেকেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল যে, এর প্রভাব পড়বে উপত্যকার পর্যটন শিল্পে। বাস্তবেও ঠিক সেটাই হচ্ছে। গত ২২ এপ্রিল বৈসরনে জঙ্গিরা ২৫ জন পর্যটক ও এক স্থানীয় বাসিন্দাকে গুলি করে হত্যার পর সেখানকার পর্যটনস্থলগুলির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন সেখানকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা কাশ্মীরের পর্যটনে তীব্র ধাক্কা দিয়েছে।
গোটা জম্মু ও কাশ্মীরে মোট ৮৭টি স্বীকৃত পর্যটনস্থলের মধ্যে ৪৮টিই আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। নিরাপত্তার খাতিরেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। একাধিক জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পটেও পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে বডগামের দুধপাথরি, অনন্তনাগের ভেরিনাগের মতো সুপরিচিত ট্যুরিস্ট স্পটও রয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কাশ্মীরের একাধিক জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গিদমন অভিযান বা কাউন্টার টেররিজ়ম অপারেশন চালাচ্ছে। এই অপারেশন চলাকালীন পর্যটকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এবং ওই এলাকাগুলিতে পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ করতেই এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে। পহেলগামে পর্যটকদের সরাসরি টার্গেট করে এতবড় জঙ্গি হামলার পরে স্বাভাবিকভাবেই সবার আগে সামনে এসে পড়েছে নিরাপত্তা প্রসঙ্গ এবং কাশ্মীরের নানা জায়গায় জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরের পর্যটনস্থলগুলিকেও এখন নিরাপদ মনে করছে না প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছে হয়তো কাশ্মীর জুড়ে জঙ্গি নিকেশ করতে সেনা কোনো বড় অভিযানের পরিকল্পনা করছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কাশ্মীরের অর্থনীতির অন্যতম মূল স্তম্ভ পর্যটনে। বহু পর্যটক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে কাশ্মীর ছেড়ে চলে গিয়েছেন। যারা কাশ্মীর ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতিতে আগাম বুকিং বাতিল করে দিচ্ছেন। সপ্তাহখানেক আগেও যেখানে কাশ্মীরের নানা ট্যুরিস্ট স্পট পর্যটকদের ভিড়ে গমগম করছিল, সেখানে হঠাৎ করে পর্যটকদের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে এসেছে।
পর্যটকদের এই ভিড় কমে যাওয়ায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে উপত্যকার পর্যটন নির্ভর বহু মানুষের রোজগারে। গাড়িচালক, ঘোড়াচালক, ছোট ব্যবসায়ী, হোটেল ও গেস্ট হাউসের মালিক ও কর্মী থেকে শুরু করে যারা নানাভাবে পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের রোজগারেও ভাটা পড়েছে।
পহেলগাম হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কাশ্মীরের পর্যটন শিল্পকে এই কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়েই যেতে হবে। পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসন ও পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।