পহেলগাঁওকাণ্ড নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশনের আর্জি, প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি লিখলেন খাড়গে

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ভয়ানক জঙ্গি হামলা নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। পহেলগাঁও জঙ্গি হানা নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের পথ খোঁজার জন্য সংসদের দুই কক্ষ— লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিশেষ অধিবেশনের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া অতর্কিত জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা দেশ ক্ষোভে ফুঁসছে এবং সর্বত্র বদলার রব উঠেছে। এই হামলার পর কাশ্মীরে জঙ্গি দমন অভিযান শুরু হয়েছে, বেশ কয়েক জন জঙ্গির বাড়ি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত-পাক সীমান্তে সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গোলাগুলির খবরও পাওয়া গিয়েছে।

পহেলগাঁও হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ করেছে ভারত সরকার। পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩ জন বাঙালি পর্যটকও ছিলেন। জখম হয়েছেন আরও অনেকে। পুলওয়ামার হামলার পর ভূস্বর্গে এটিই এত বড় মাপের জঙ্গি হামলা। পর্যটকে ঠাসা কাশ্মীরে এই ধরনের জঙ্গি হামলার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বেশ কয়েক জন বিরোধী সাংসদ ইতিমধ্যেই পহেলগাঁও হামলা নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদে বিশেষ অধিবেশনের দাবি জানিয়ে সরব হয়েছিলেন। এবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে এই আনুষ্ঠানিক আর্জি জানালেন। প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে খাড়গে বলেছেন, “এই মুহূর্তে দেশের জন্য একতা খুবই জরুরি। বিরোধী পক্ষ বিশ্বাস করে যে, যত দ্রুত সম্ভব সংসদের দুই কক্ষে বিশেষ অধিবেশন ডেকে এই গুরুতর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হোক।”

পহেলগাঁও হামলা নিয়ে এর আগে সরকার একটি সর্বদল বৈঠক ডেকেছিল। যদিও সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী উপস্থিত ছিলেন না। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ওই বৈঠক হয়।

পহেলগাঁও হামলার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেও কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “ভারত অবশ্যই প্রত্যেক সন্ত্রাসবাদীকে খুঁজে বার করবে। তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেবে। শাস্তি দেওয়া হবে তাদের মদতদাতাদেরও।” মোদী এ-ও বলেছিলেন, “যে সব জঙ্গি এই হামলা ঘটিয়েছে এবং যারা এই হামলার ষড়যন্ত্র করেছে, তারা এমন শাস্তি পাবে, যা কল্পনাতীত।”

পহেলগাঁও হামলার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ এবং ভারত-পাক সীমান্তে উত্তেজনার আবহে কংগ্রেস সভাপতির এই চিঠি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সরকার এই দাবি মেনে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকে কিনা, সেটাই এখন দেখার। বিরোধী পক্ষ এই ইস্যুতে সরকারকে সংসদে আলোচনার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।