পহেলগাঁও জঙ্গিহামলার ৭ দিন পার, স্কেচ ছবি দিয়েও নেই গ্রেফতার, তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়ে? উপত্যকা জুড়ে তল্লাশি

জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সাতদিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত ঐ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি নিরাপত্তা বাহিনী। হামলায় ব্যবহৃত জঙ্গিদের স্কেচ ছবি প্রকাশ করা হলেও অধরা রয়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা সংস্থা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাথমিক ব্যর্থতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া ঐ নৃশংস হামলায় ২৭ জন নিরীহ ভারতীয় পর্যটক প্রাণ হারিয়েছিলেন।

সেনা সূত্রের দাবি, পহেলগাম হামলার পর কুলগামের কাছে ঐ হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে পেরেছিল নিরাপত্তাবাহিনী এবং সেখানে দু’পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ও হয়। কিন্তু ঘন জঙ্গলের আড়াল এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা ঐ এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। যদিও ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে সরকারি ভাবে ঐ এনকাউন্টার বা জঙ্গিদের পালিয়ে যাওয়া বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছুই জানানো হয়নি।

পহেলগাঁও হামলার তদন্তভার সরকারিভাবে গ্রহণ করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। এই মুহূর্তে এনআইএ টিম, ফরেন্সিক টিম এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বৈসরন ভ‍্যালি এবং আশপাশের জঙ্গলে তদন্ত ও তল্লাশি চালাচ্ছেন। সুরক্ষার স্বার্থে গোটা বৈসরন ভ‍্যালি এলাকাটি বর্তমানে রেসট্রিকটেড বা সাধারণের প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

গত এক সপ্তাহে পহেলগাম হামলার তদন্ত এবং হামলাকারীদের খোঁজে নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পহেলগাঁও লাগোয়া একাধিক জঙ্গলে টানা চিরুনি তল্লাশি চলছে। সূত্রের খবর, সেনাবাহিনী ও আধাসেনা এই মুহুর্তে একটি আনড্সক্লোজড লোকেশনে বড়সড় অপারেশন চালাচ্ছে। ঐ ঘটনার পর স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে পহেলগাঁওয়ের স্থানীয় পোনি চালকদের একটি বড় অংশকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়াও হামলার সাথে জড়িত থাকতে পারে এমন সন্দেহে বেশ কিছু ওসিডব্লিউ (Over Ground Workers)-কে গ্রেফতার করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, হামলাকারী জঙ্গিরা অত্যন্ত উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং তারা টানা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছে (‘অন দ‍্য মুভ’), যার কারণে তাদের বাগে আনতে কিছুটা বেশি সময় লাগছে। এনআইএ টিমও প্রথম থেকেই পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় উপস্থিত থেকে তদন্ত করছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পহেলগাঁওয়ের ভৌগোলিক পরিস্থিতি জঙ্গিদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। চারদিকে ঘন জঙ্গলের সুবিধা নিয়ে জঙ্গিরা খুব সহজেই এক জায়গা থেকে সরে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ঐ জঙ্গলের আড়ালকে ব্যবহার করে জঙ্গিরা কোকেরনাগ বা কিস্তওয়ারের মতো দূরের এলাকাগুলিতে চলে যেতে পারে। কিস্তওয়ারের দুর্গম জঙ্গল ও পাহাড়ের মাধ্যমে ডোডার সাথেও যোগাযোগ রয়েছে। আর একবার ডোডা পৌঁছলে সেখান থেকে কাঠুয়া পর্যন্ত চলে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে জঙ্গিদের। আবার জঙ্গলের আড়ালের সুযোগ নিয়ে তারা সোনমার্গ বা বালতালের মতো অঞ্চলেও পৌঁছে যেতে পারে।

সূত্রের দাবি, হামলাকারী জঙ্গিদের শেষ দফায় ত্রাল এবং তার পরে কোকেরনাগে দেখা গিয়েছে। একারণে কেবল পহেলগাম নয়, গোটা এলাকা ধরেই অর্থাৎ ত্রাল, কোকেরনাগ, কুলগাম সহ বিভিন্ন সম্ভাব্য রুট ধরে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী, আধাসেনা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। পহেলগাম হামলার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত মূল হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে না পারায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া এবং গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবে উপত্যকা জুড়ে তাদের খোঁজে লাগাতার অভিযান চলছে।