সাজানো সংসার ছেড়ে পাকিস্তানে ফিরতে হবে ! কঠোর পদক্ষেপে বিপাকে পাকিস্তানি নাগরিক, সদ্য বিবাহিত তরুণীর চোখে জল

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কে নতুন করে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জেরে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে এবং সীমান্তে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পহেলগাঁও গণহত্যা কাণ্ডের পরই ভারত সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

ভারত সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি স্থগিত রাখা, আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে সমস্ত রকম পারাপার বন্ধ করে দেওয়া এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সমস্ত ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া। পাশাপাশি, ভারত সরকার সে দেশে থাকা সমস্ত পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করেছে এবং তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর আটারি সীমান্ত সহ বিভিন্ন পয়েন্টে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার জন্য বহু পাকিস্তানি নাগরিকের ভিড় দেখা গিয়েছে।

ভারত সরকারের এই আকস্মিক ও কঠোর সিদ্ধান্তে বহু পাকিস্তানি নাগরিক চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই পর্যটনের জন্য ভারতে এসে কয়েকদিনের মধ্যেই হঠাৎ করে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আবার অনেকে, যারা দীর্ঘকাল ধরে পাকিস্তান ছেড়ে ভারতেই পাকাপাকিভাবে বসবাস করছিলেন বা এখানে পরিবার স্থাপন করেছিলেন, তাঁরাও এই নির্দেশের ফলে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন।

এই মানুষজনের দুর্দশার তালিকায় রয়েছেন সামরিন নামে এক তরুণী। তিনি পাকিস্তানের নাগরিক। মাত্র ৪৫ দিনের ভিসা নিয়ে তিনি গত সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে এসেছিলেন। এদেশে এক ভারতীয়কে বিয়ে করে তিনি সম্প্রতি নিজের নতুন সংসার গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু মোদী সরকারের ভিসা বাতিলের নির্দেশ আসার পর এখন তাঁকে সদ্য সাজানো সংসার ফেলে ভারত ছাড়তে হচ্ছে।

সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার সময় তাঁর চোখে জল ছিল। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি গত সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে আসি। আমার ৪৫ দিনের ভিসা ছিল। তারপর এখানে আমার বিয়ে হয়। দীর্ঘমেয়াদি ভিসা এখনও পাইনি তার আগে এই নির্দেশ এল। আমায় এখন পাকিস্তানে ফিরে যেতে হচ্ছে। আমাদের কী দোষ? আমাদের কেন এভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে? জঙ্গিদের শাস্তি দেওয়া হোক।” সেই সঙ্গেই তিনি ভারত সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, এদেশে যাঁদের আত্মীয়-স্বজন রয়েছে, মানবিকতার খাতিরে তাঁদের অন্তত ভারতে থাকার অনুমতি দেওয়া হোক।

পহেলগাম হামলার জেরে উদ্ভূত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মানবিক মূল্য চোকাতে হচ্ছে সামরিনের মতো বহু সাধারণ পাকিস্তানি নাগরিককে, যারা দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের বলি হচ্ছেন। এই ঘটনা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতাকে আরও একবার স্পষ্ট করে তুলেছে।