“রোগীর নাম–পদবি–পরিচয় দেখবেন না”-ডাক্তারদের আহ্বান জানালো সংগঠন

পহেলগামের ঘটনায় সারা দেশে যে হিন্দু-মুসলিমের সহিষ্ণুতার বাতাবরণে কমবেশি আঁচ লেগেছে, তার প্রতিফলন হিসেবে মহেশতলার সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল। সেখানে এক মুসলিম অন্তঃসত্ত্বাকে দেখতে অস্বীকার করার অভিযোগ উঠেছে এক হিন্দু প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে। এমন অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোগীর পরিচয় দেখে যাতে কোনো বৈষম্য না হয়, সেই মর্মে সোচ্চার হয়েছে একাধিক চিকিৎসক সংগঠন। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)-এর রাজ্য শাখা সোমবার কালো ব্যাজ পরে ডাক্তারি করার মাধ্যমে হিপোক্রেটিসের শপথ মনে করিয়ে দিয়েছে।
চিকিৎসক সংগঠনগুলির স্পষ্ট বক্তব্য, রোগীর নাম–পদবি–পরিচয় বা ধর্ম না দেখেই চিকিৎসার হাত বাড়িয়ে দেওয়া তাঁদের নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য। রোগীর পরিচয় দেখে পক্ষপাতদুষ্ট হওয়া তাঁদের শপথের পরিপন্থী। এই কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে চিকিৎসক সমাজ নিজেদের মৌলিক নীতি ও শপথের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, চিকিৎসা একটি সেবামূলক পেশা এবং এখানে ধর্ম বা অন্য কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে রোগীর সঙ্গে বৈষম্য করা হবে না।
আইএমএ-র কালো ব্যাজ প্রতিবাদ
ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)-এর রাজ্য শাখার সম্পাদক ডঃ শান্তনু সেন জানান, চিকিৎসক সমাজের প্রতি তাঁদের জোরালো আর্জি, কোনো চিকিৎসক যেন রোগীর ধর্ম দেখে বা অন্য কোনো পরিচয় দেখে প্রভাবিত হয়ে পক্ষপাতদুষ্ট না হয়ে পড়েন এবং নিছক রোগী হিসেবেই সকলের প্রতি নিঃস্বার্থ চিকিৎসা করেন। পহেলগামের ঘটনার প্রতিবাদ এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা দিতেই ডাক্তারদের এ দিন কালো ব্যাজ পরার ডাক দেন তিনি। শান্তনু নিজেও তা–ই করেন এবং কালো ব্যাজ পরেই রোগী দেখেন, আলট্রাসোনোগ্রাফি করেন। তিনি বলেন, “এই সঙ্কটের সময়ে আমরা পারস্পরিক বিশ্বাসকে সঙ্গী করে ঐক্যবদ্ধ থাকবো এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবো, এটাই আমাদের প্রার্থনা। মনে রাখতে হবে হিপোক্রেটিসের শপথের কথাও, যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।”
অন্যান্য সংগঠনের বার্তা
একই বক্তব্য পাঁচটি চিকিৎসক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ এবং অভয়া মঞ্চেরও। এই সংগঠনগুলির যুগ্ম আহ্বায়ক পূণ্যব্রত গুণ, তমোনাশ চৌধুরী ও মণীষা আদক একটি প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “আমরা জনসাধারণ এবং সমগ্র চিকিৎসক সমাজকে জোরালোভাবে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, চিকিৎসক হওয়ার সময়ে যে হিপোক্রেটিক শপথবাক্য পাঠ করা হয়, তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চললে তাঁরা রোগীদের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ করতে পারেন না। চিকিৎসা সংক্রান্ত দেশের যে আইনকানুন আছে, তা মেনে চললেও পারেন না। লিঙ্গ–বর্ণ–ধর্ম–দেশ ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতি নির্বিশেষে প্রত্যেক রোগীকে সর্বোচ্চ পরিষেবা দিতে একজন চিকিৎসক আইনগত ও নৈতিক ভাবে বাধ্য।” মহেশতলার ওই অভিযুক্ত চিকিৎসককে তাঁরা তীব্র ধিক্কারও জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, দেশের কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে চিকিৎসক সমাজ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য চিকিৎসার হাত প্রসারিত রাখার অঙ্গীকারের কথা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়ে চিকিৎসা পরিষেবার পবিত্রতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।