SSC-র ‘নন-টেন্টেড’ তালিকা নিয়ে এখনও জট, সমস্যা রয়েছে বেতনেও

কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশে চাকরি হারানো যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গত ১৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট ‘নন-টেন্টেড’ হিসেবে চিহ্নিত করে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, তাঁদের একাংশ এখনও স্কুলে যোগ দিতে পারেননি। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) তৈরি করা তালিকায় নানা জটিলতা এবং কমিশনের কেন্দ্রীয় অফিসে চলমান বিক্ষোভের জেরে স্কুলে যোগদানে এই বিলম্ব ঘটছে, যার ফলে চলতি মাসের (এপ্রিল) বেতন পাওয়াও তাদের অনেকের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, স্কুল সার্ভিস কমিশন দ্রুত চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে থেকে প্রায় ১৫,৪০৩ জন ‘নন-টেন্টেড’ প্রার্থীর একটি তালিকা তৈরি করে সব জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (ডিআই, মাধ্যমিক) কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সেই তালিকা পাঠানোর সপ্তাহখানেক পরেও সেই শিক্ষক–শিক্ষিকাদের একাংশ এখনও স্কুলে যোগ দিতে পারেননি। সোমবারও এমন শিক্ষক–শিক্ষিকার সংখ্যা ১৫০–র বেশি বলেই খবর। স্কুলে যোগদান সম্পন্ন না হওয়ায় চলতি মাসে তাঁদের সময়ে বেতন পাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তালিকায় গোলমাল ও অফিস ঘেরাও
স্কুলে যোগদানে এই বিলম্বের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, এসএসসি’র তৈরি করা তালিকাটিতে নানা গোলমাল সামনে এসেছে – কারো নাম ভুলবশত বাদ পড়েছে, আবার কারো নাম ভুলবশত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, কমিশনের সল্টলেকের কেন্দ্রীয় অফিসে কলকাতা হাইকোর্ট ও শীর্ষ আদালতে ‘টেন্টেড’ হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষক–শিক্ষাকর্মীদের অবস্থান–বিক্ষোভ চলায় সমস্যা বেড়েছে। এর ফলে এসএসসি–র চেয়ারপার্সন সিদ্ধার্থ মজুমদার কয়েক দিন ধরে অফিসে ঢুকতে পারেননি এবং কমিশনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
সিদ্ধার্থ মজুমদার গত বৃহস্পতিবার থেকে বিকাশ ভবনেই বসে কমিশনের কাজ করছেন। সোমবার কমিশনের যে সব কর্মী–আধিকারিক অফিসে ঢুকতে পেরেছেন, বেলা গড়াতেই তাঁরাও খাবার ও পানীয় জল নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন বলে জানা গেছে।
তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ
এই সমস্যার সমাধানে স্কুলশিক্ষা কমিশনার এবং এসএসসি’র চেয়ারপার্সন উদ্যোগী হয়েছেন। বিকাশ ভবনের খবর অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত এমন প্রায় ৩৫০ জন ‘নন-টেন্টেড’ শিক্ষক-শিক্ষিকা ছিলেন যাদের নাম তৈরি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এই নিয়ে স্কুলশিক্ষা কমিশনার এবং চেয়ারপার্সন শুক্র ও শনিবার ডিআই’দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। স্কুলশিক্ষা কমিশনার শুক্রবার রাতেই ছ’টি জেলার (কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগণা) ডিআই’কে স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, ‘নির্দিষ্ট ভাবে টেন্টেড প্রমাণিত হননি’ তালিকায় অসাবধানে কিছু টেন্টেড প্রার্থীর নামও ফরোয়ার্ড করা হয়েছে এবং সেই নামগুলি দ্রুত বাদ দিতে হবে। শনিবার সরকারি ছুটির দিন হলেও এসএসসি–র চেয়ারপার্সন সিদ্ধার্থ মজুমদার বিকাশ ভবনে বসেই ‘যোগ্য’ ২০০ চাকরিপ্রার্থীর নাম নতুন করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন।
চিন্ময় মণ্ডলের নাম সংযোজন
চাকরিহারা ‘যোগ্য শিক্ষক–শিক্ষিকা অধিকার আন্দোলন’–এর কনভেনর চিন্ময় মণ্ডলের নামও প্রথমে বাদ গিয়েছিল, যা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়। সোমবার তাঁর নাম অবশেষে তালিকাভুক্ত হয়েছে। নিজের সোশ্যাল সাইটে চিন্ময় মণ্ডল নিজেই সে কথা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘নন-টেন্টেড’ যে সব শিক্ষক–শিক্ষিকার নাম ভুলবশত ছিল না, তাঁদের নাম আসতে শুরু করেছে। আমার নামও আছে। স্যালারি পোর্টালেও সাবমিট করা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, শীর্ষ আদালতের রায়ে এই শিক্ষক–শিক্ষিকারা অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে যেতে পারবেন ও বেতন পাবেন। সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক ও অন্যান্য জটিলতার কারণে চাকরি ফিরে পাওয়া বহু শিক্ষক-শিক্ষিকার স্কুলে যোগদান এবং চলতি মাসের বেতন প্রাপ্তি নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।