মুরগির মাংস নাকি ৮০০ টাকা কেজি, চাল ৩৫০! চরম সঙ্কটে পাকিস্তান……

ফের ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ জিগির তুলেছে পাকিস্তান, পাক নেতারা দিচ্ছেন পরমাণু হামলার হুমকিও। কিন্তু নিজেদের দেশের ভেতরের অবস্থা কি তারা একবারও খতিয়ে দেখেছেন? পাকিস্তানের অর্থনীতি এখন চরম সংকটে। ভাঁড়ে মা ভবানী দশা যাকে বলে! খাদ্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। এমনিতেই চাল, আটা, সবজি, ফল ও মাংসের দাম অনেক বেশি, তার উপর ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হওয়ায় এই দাম আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষ অর্থাৎ ২০২৩-২৪ সালে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে প্রায় ৩৮৮৬ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপার থেকে আসা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। অমৃতসরের এই সীমান্ত দিয়েই মূলত এতদিন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে পণ্য আমদানি-রফতানি হতো। পাকিস্তান নিজে থেকেই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য স্থগিত করে কার্যত নিজের পায়ে কুড়ুল মেরেছে।

ভারত থেকে পাকিস্তান এতদিন অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ, বিভিন্ন কেমিক্যাল, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য, মাছ-মাংস, ফল, সবজি এবং জিপসাম ও লবণ আমদানি করত।

বর্তমানে পাকিস্তানের বাজারের দিকে তাকালে খাদ্যপণ্যের অগ্নিমূল্য পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়। সম্প্রতি কিছু রিপোর্টে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বহু সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ভারতের বাজারে যেখানে এক কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংসের দাম প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, সেখানে পাকিস্তানের বাজারে এর দাম প্রায় ৮০০ পাকিস্তানি টাকার কাছাকাছি। বাসমতি চালের দাম প্রতি কেজি ৩৪০ পাকিস্তানি টাকার উপরে!

পরিস্থিতি এখানেই থামছে না। এক ডজন মুরগির ডিমের দাম প্রায় ৩৩২ পাকিস্তানি রুপি, এক লিটার দুধ কিনতে লাগছে ২২৪ পাকিস্তানি রুপি। ৫০০ গ্রাম পাউরুটির দাম ১৬১ পাকিস্তানি টাকা, আর প্রতি কেজি আলুর দাম ১০৫ পাকিস্তানি টাকার বেশি। আপেলের দাম কেজি প্রতি ২৮৮ পাকিস্তানি টাকা, কলার দাম ১৭৬ পাকিস্তানি টাকা। (এই দামগুলি এপ্রিল ২০২৫-এর শেষ সপ্তাহের বাজারদর অনুযায়ী বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে প্রাপ্ত, যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে পারে)।

পাকিস্তানের জন্য আরও বড় বিপদ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংকট। পাকিস্তান তার প্রয়োজনীয় ওষুধের কাঁচামাল এবং ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের ৩০-৪০ শতাংশ ভারত থেকে আমদানি করে। বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার ফলে বাজারে জীবনদায়ী ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি স্বাস্থ্য পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই পরিস্থিতি পাকিস্তানের স্বাস্থ্যখাতকে গভীর সংকটে ফেলবে। যুদ্ধ বা সংঘাতের জিগির তোলার আগে নীতি নির্ধারকদের দেশের সাধারণ মানুষের এই কঠিন বাস্তবের দিকে নজর দেওয়া উচিত।