“দিঘাই যেন এখন ‘পুরী'”-জেনেনিন জগন্নাথ মন্দিরের মেগা উদ্বোধনে হবে কী কী অনুষ্ঠান?

বাংলার উপকূলবর্তী পর্যটন কেন্দ্র দিঘার মুকুটে যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন পালক। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে এক भव्य নতুন মন্দির, যা পর্যটকদের পুরীর আধ্যাত্মিক আমেজ দেওয়ার লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল, ২০২৫ সালের অক্ষয় তৃতীয়ার পবিত্র দিনে এই মন্দিরের দ্বারোদঘাটন এবং দেবতাদের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই দিঘায় পুরীর মতো একটি মন্দির গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। সেই কারণে পুরীর প্রসিদ্ধ রাজেশ দৈতাপতির থেকে মন্দিরের নকশা ও আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে পদে-পদে পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। ইঞ্জিনিয়াররা পুরীর মূল মন্দিরের নকশাও বিশ্লেষণ করেছেন এবং পুরীর মন্দিরের ঐতিহ্যকে আধুনিক আর্কিটেকচারের সঙ্গে সমন্বিত করে এই মন্দিরটি গড়ে তুলেছেন, যাতে এখানে আসা দর্শনার্থীরা প্রকৃতই পুরীর মতো অনুভূতি লাভ করেন।
দিঘার নতুন জগন্নাথ মন্দির চত্বরে বর্তমানে ব্যাপক ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান চলছে। সম্প্রতি একটি অস্থায়ী আটচালা ঘরে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা এবং সুদর্শন দেবতাকে ১২ লিটার দুধ দিয়ে স্নান করানো হয়েছে। মন্দিরের অন্যান্য দেবতা যেমন বিমলা, লক্ষ্মী, সত্যভামা প্রমুখেরও স্নান সম্পন্ন হয়েছে। সকাল থেকেই শুরু হয়েছে পবিত্র হোমযজ্ঞ। পুরীর মন্দিরের রাজেশ দৈতাপতির নেতৃত্বে চারদিকে চারটি হোমকুণ্ড এবং মাঝখানে মহাকুণ্ডে হোমাগ্নি প্রজ্বলিত রয়েছে। গর্ভগৃহে প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবতাদের আহ্বান করা হচ্ছে এবং ২৫ জন মহিলা কলম হাতে গর্ভগৃহ প্রদক্ষিণ করেছেন। আগামী ২৯ এপ্রিল মহাযজ্ঞের আয়োজন হবে এবং দ্বারোদঘাটনের আগে পর্যন্ত প্রতিদিন বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান চলবে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ২৮ এপ্রিলই দিঘায় পৌঁছাতে পারেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। দ্বারোদঘাটন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজি-সহ পাঁচজন মন্ত্রী এবং বহু শিল্পপতি আগে থেকেই দিঘায় উপস্থিত থাকবেন। এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে গোটা দিঘা শহর ইতিমধ্যেই সুদৃশ্য আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়েছে। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রস্তুতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৯ সালের ২০ আগস্ট দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন। দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ মন্দিরের জন্য ২০ একর জমি প্রদান করে এবং নির্মাণের দায়িত্ব পায় রাজ্য সরকারের সংস্থা হিডকো (HIDCO)। পুরীর মন্দিরের আদলে নির্মিত এই মন্দির সংলগ্ন অঞ্চলে থাকছে জগন্নাথের মাসির বাড়িও। মন্দির নির্মাণ ও আচার অনুষ্ঠান যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে রাজেশ দৈতাপতির সঙ্গে প্রশাসনের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভবিষ্যতে রথযাত্রার সময় পুরীর মতো দিঘাতেও সোনার ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা ঝাঁট দেওয়া হবে। এই বিশেষ আচারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে ৫ লক্ষ ১ টাকা দান করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি চান সাধারণ মানুষের জন্য মন্দির দর্শন অবাধ ও নির্বিঘ্ন হোক। তাই ভিআইপি-দের অতিরিক্ত ভিড় যাতে না হয়, সেই বিষয়েও নজর রাখার সুপারিশ করেছেন তিনি।
আগামী ৩০ এপ্রিলের দ্বারোদঘাটনকে সামনে রেখে বহু মানুষ ইতিমধ্যেই মন্দির দর্শনের জন্য দিঘা যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তবে দক্ষিণ পূর্ব রেলের সিদ্ধান্তে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। হাওড়া থেকে দিঘা এবং পাঁশকুড়া থেকে দিঘাগামী কিছু স্পেশাল লোকাল ট্রেন চলার কথা থাকলেও, আপাতত ৪ মে পর্যন্ত সেগুলি বাতিল করা হয়েছে। তবে তার মানে এই নয় যে সব ট্রেন বাতিল। অন্য সাধারণ ট্রেনের পরিষেবা আগের মতোই চালু থাকবে। এই নতুন মন্দির দিঘার পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।