বৈশাখের অমাবস্যায় বড়মার অন্নকূট উৎসব, জেনেনিন কী কী ভোগ দেওয়া হয় মাকে?

বৈশাখের অমাবস্যা তিথিতে নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী ও জাগ্রত বড়মা কালী মন্দিরে পালিত হলো বর্ণাঢ্য অন্নকূট উৎসব। রবিবার এই বিশেষ দিনে প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার কিলোগ্রামের বিশাল অন্নভোগ নিবেদন করে পুজিত হলেন বড়মা। এই মহোৎসবে যোগ দিতে সকাল থেকেই মন্দিরের সামনে হাজার হাজার ভক্তের ঢল নেমেছিল। ‘ধর্ম হোক যার যার, বড় মা সবার’ – এই মন্ত্রে বিশ্বাসী বড়মা মন্দির জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভক্তকেই আপন করে নেয়, আর তাই নৈহাটির বড়মাকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা ও ভক্তি সর্বদা চোখে পড়ার মতো।

শনিবার রাতের ঝড়জলে রাজ্যের তাপমাত্রা কিছুটা কমে তাপপ্রবাহ থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, রবিবার সকাল থেকে রোদ ছিল। সেই রোদ উপেক্ষা করেই ভক্তরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বড়মার দর্শন ও ভোগ গ্রহণের অপেক্ষায় ছিলেন। নৈহাটির অরবিন্দ রোডে শুধু মানুষের মাথা দেখা যাচ্ছিল, যা ভক্তদের বিপুল সমাগমের প্রমাণ দেয়। এই ভিড় সামলাতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

নৈহাটি বড়কালী মন্দিরের ট্রাস্টের সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য জানান, এই অন্নকূট উৎসবের এবার ১২ বছর অতিক্রান্ত হলো। প্রতি বছর বৈশাখের অমাবস্যা তিথিতেই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই দিনটায় বড়মার পুজোর পাশাপাশি দেবী অন্নপূর্ণারও পুজো করা হয়। অন্নকূট শব্দের অর্থই হলো অন্নের পাহাড়, এবং এই দিন মন্দিরের ভিতরে তেমনই এক বিশাল অন্নের পাহাড় পরম যত্নে সাজানো হয়। ফুলেল সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছিল অন্নকূটের স্থানটি।

তাপস ভট্টাচার্য আরও জানান, অন্নকূটে নিবেদিত ভোগের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার কিলোগ্রাম। এই বিপুল ভোগে ছিল পোলাও, আলুর দম, পাঁচ রকমের ভাজা, চাটনি, পায়েস সহ বিভিন্ন সুস্বাদু পদ। মন্দিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমস্ত প্রসাদই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে উপস্থিত সকল ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। দুপুর ৩টে থেকে ভক্তরা সেই প্রসাদ গ্রহণ করতে শুরু করেছেন।

দূরদূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার ভক্তের সুবিধার কথা মাথায় রেখে মন্দিরের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। গরমের কথা ভেবে মন্দিরের সামনে সুবিশাল ছাউনি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ভক্তরা অপেক্ষারত অবস্থায় রোদ থেকে বাঁচতে পারেন। এছাড়াও, তীব্র গরম থেকে স্বস্তি দিতে কুলার ও পাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভক্তদের জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জল এবং প্রয়োজনে ORS-এর ব্যবস্থাও ছিল। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত মন্দিরে বিশেষ পুজো সম্পন্ন হয়েছে।

বৈশাখের অমাবস্যায় নৈহাটির বড়মার অন্নকূট উৎসব আবারও প্রমাণ করল যে দেবী বড়মা শুধু ভক্তদের কাছে একজন দেবীই নন, তিনি সকল মানুষের মিলনস্থল এবং ভালোবাসার প্রতীক, যা ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সকলকে একত্রিত করে।