OMG! কালবৈশাখীতে উড়ল ঘরের চাল, গৃহহীন ১০ পরিবার, ক্ষোভ উগড়ে কী বলল বাসিন্দারা?

গত শনিবার রাতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মতো নদিয়া জেলাতেও ব্যাপক ঝড় বয়ে গেছে। এই ঝড়ের তাণ্ডবে শান্তিপুর ব্লকের গয়েশপুর পঞ্চায়েতের হিজুলি গ্রাম কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। গ্রামের একাধিক কাঁচা বাড়ি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে এবং বহু টিনের চাল উড়ে গেছে। এর ফলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টি পরিবার শনিবার রাত থেকে গৃহহীন অবস্থায় চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীদের অভিযোগ ছিল, ঘটনার পর থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত কোনো সরকারি আধিকারিকের দেখা মেলেনি এবং কোনো সরকারি সাহায্যও এসে পৌঁছায়নি।

হিজুলি গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শনিবার রাতের ঝড়ের দাপট এতটাই ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে তাদের বহু ঘরবাড়ি মাটিতে মিশে গেছে বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে দুর্বল কাঠামোর এবং টিনের চালের বাড়িগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতারাতি মাথার উপরের ছাদ হারিয়ে পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে বা প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে এই তীব্র গরমে তাদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

ঝড়ের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সরকারি তরফে কোনো সাহায্যের হাত না বাড়ানোয় এলাকাবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কেউই তাদের খোঁজখবর নিতে আসেননি বা দুর্গতদের জন্য ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর উদ্যোগ নেননি।

তবে, এলাকাবাসীদের অভিযোগ এবং সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রবিবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য আসাদুল শেখ এবং গয়েশপুর পঞ্চায়েতের প্রধান শ্যামল ঘোষ। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং দুর্গত পরিবারগুলোর কাছ থেকে তাদের ক্ষয়ক্ষতি ও সমস্যার কথা শোনেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য আসাদুল শেখ বলেন, “শনিবার রাতের ঝড়ে বহু কাঁচা বাড়ি ভেঙেছে। টিনের চাল উড়ে গেছে। গয়েশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ১০ থেকে ১৫টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান এবং প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাঁরা রবিবার বিকেলে এসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলবেন।”

এর পরই এ দিন বিকেলে এলাকা পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান শ্যামল ঘোষ। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো হবে এবং দ্রুত তাদের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঝড়ে যাঁদের বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের সরকারি আবাস যোজনার আওতায় নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়া যায় কিনা, সে বিষয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

যদিও স্থানীয় নেতৃত্বের আশ্বাসের পর এলাকাবাসীরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন, তবুও যত দ্রুত সম্ভব সরকারি সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে দাবি জানিয়েছেন তারা।