কলকাতায় বিপুল সম্পত্তি কর বাকি, বকেয়া আদায়ে অভিযানে পুরনিগম

কলকাতা পুরনিগমের সম্পত্তি কর আদায়ের ক্ষেত্রে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। শহর জুড়ে ৯ লক্ষেরও বেশি সম্পত্তি করদাতা থাকলেও, মাত্র হাতেগোনা প্রায় ১৫০০ জন বিত্তশালীর কাছে পুরনিগম পাওনা রয়েছে প্রায় ৩৫০০ কোটি টাকা। বছরের পর বছর ধরে কর পরিশোধ না করায় সুদ, আসল ও জরিমানা যোগ হয়ে এই বিপুল অঙ্কের বকেয়া তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার কঠোর হতে চলেছে পুরনিগম। সম্পত্তি কর মূল্যায়ন বিভাগ এই বিপুল পরিমাণ অনাদায়ী কর পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ অভিযান শুরু করতে চলেছে।

পুরনিগম সূত্রে জানা গেছে, এই লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রতিটি ডিভিশনে আলাদা করে বিশেষ দল গঠন করা হচ্ছে। সম্প্রতি কলকাতার টাউন হলে সম্পত্তি কর বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং কমিশনার ধবল জৈন দফতরের সমস্যাগুলি শোনেন এবং পুরনিগমের রাজস্ব বৃদ্ধির উপর জোর দেন। এরপরই তৎপর হয় সম্পত্তি কর মূল্যায়ন বিভাগ। ইতিমধ্যেই ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা এবং ১ কোটি টাকার বেশি বকেয়া রয়েছে, এমন করদাতাদের পৃথক তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

জানা গেছে, মূলত শহরের ধনী এবং প্রভাবশালী নাগরিকদের একটি ছোট অংশই এই বিশাল অঙ্কের কর বছরের পর বছর ধরে ফাঁকি দিয়ে আসছেন। পরিসংখ্যান বলছে, কমবেশি ৭০০ জন এমন করদাতা আছেন, যাঁদের কাছে সুদ, আসল ও জরিমানা সহ বকেয়ার পরিমাণ ১ কোটি টাকারও বেশি। এই ৭০০ জনের কাছে মূল বকেয়া করের পরিমাণ প্রায় ১১০০ কোটি টাকা, যা সুদ ও জরিমানা ধরে প্রায় ২৯০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একইভাবে, প্রায় ৮০০ জন করদাতার বকেয়ার পরিমাণ ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে। এদের কাছে মূল বকেয়া কর প্রায় ২৫০ কোটি টাকা, যা সুদ ও জরিমানা সহ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। এই চিহ্নিত বিত্তবান করদাতাদের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সম্পত্তি কর মূল্যায়ন বিভাগ। প্রয়োজনে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো কড়া পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

কলকাতা পুরনিগমের এক আধিকারিক এই প্রসঙ্গে জানান, মেয়র ফিরহাদ হাকিম ব্যক্তিগতভাবে এই বকেয়া কর আদায়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন। গত অর্থবর্ষে আগের বছরের তুলনায় পুরনিগমের কর আদায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার বেশিরভাগই এসেছিল নিয়মিত করদাতাদের কাছ থেকে। কিন্তু মুষ্টিমেয় কিছু নাগরিক বছরের পর বছর ধরে প্রায় ৩৫০০ কোটিরও বেশি টাকা আটকে রেখেছেন। আধিকারিক আরও বলেন, হয়তো সম্পূর্ণ বকেয়া আদায় সম্ভব হবে না, কিন্তু সিংহভাগ পুনরুদ্ধার করার জন্য আইনত যা যা পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, তার সবুজ সংকেত আমরা পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, “তালিকা তৈরির সঙ্গেই প্রতিটি ডিভিশনে ডেপুটি ম্যানেজারদের নেতৃত্বে বিশেষ টিম তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। লাগাতার অভিযান চালানো হবে। লক্ষ্য একটাই – যত দ্রুত সম্ভব এই বকেয়া আদায় করা। এই করদাতাদের ক্ষেত্রে আর কোনও রকম নরম মনোভাব দেখানো হবে না।” এই অর্থবর্ষ জুড়ে এই অভিযান চলবে এবং এর ফলে গত বছরের আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা এবার অনেকটাই ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।