দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের আগেই একের পর এক বিপত্তি, মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্প ঘিরে বাড়ছে আতঙ্ক

আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। আগামী ৩০ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই উদ্বোধন হতে চলেছে তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প, দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের। উদ্বোধনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এখন জোরকদমে চলছে, সর্বত্র সাজ সাজ রব। কিন্তু এই উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেই একের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটছে, যা উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দুর্ঘটনা, সবকিছু মিলিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

মন্দিরের উদ্বোধনের ঠিক আগেই কি কোনও ‘বাধা’ আসছে? রাজ্য জুড়ে জারি রয়েছে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা। দফায় দফায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এমনই এক পরিস্থিতিতে গত শনিবার রাতে আচমকা দমকা ঝোড়ো হাওয়ায় ভেঙে পড়ে নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের কাছে তৈরি হওয়া বিশাল একটি অস্থায়ী লাইটের গেট। জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে গোটা দিঘা জুড়ে চন্দননগরের আলোকসজ্জা দিয়ে তৈরি হয়েছিল এই গেটগুলি। লাইটের গেটটি ভেঙে পড়ায় তার নীচে চাপা পড়ে দুটি টোটো, যদিও টোটো চালকরা কোনওমতে প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হন। এই ঘটনায় লোহার গেটের কাঠামো ভেঙে এক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। মন্দির উদ্বোধনের আগেই এই ‘রক্তপাত’ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এই ঘটনার পর বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

ওল্ড দিঘার নেহরু মার্কেটের সামনে এই লাইটের গেট ভেঙে পড়ায় সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের ঠিক আগে এমন কালবৈশাখীর তাণ্ডবকে ‘ঈশ্বরের সংকেত’ হিসেবে দেখছেন। এই সুযোগে বিরোধীরাও একযোগে সুর চড়াতে শুরু করেছে। বিজেপির অমিত মালব্য অভিযোগ করেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দুদের প্রতি ভুয়ো সমর্থন দেখিয়ে নিজেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টায় যে মন্দির বানাচ্ছেন, তা কোনও ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে নয়, বরং দুর্নীতি ও রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যেই তৈরি হচ্ছে।

গেরুয়া শিবির প্রশ্ন তুলছে, এটি কি কেবলই প্রকৃতির রোষ, নাকি ঈশ্বর এই দুর্যোগের মাধ্যমে কোনো বার্তা দিচ্ছেন? সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকল্প বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি সরাসরি তোপ দেগেছে যে, হীন রাজনৈতিক স্বার্থই নাকি এই প্রকল্পের আসল চালিকা শক্তি।

অমিত মালব্যের আরও অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মুখে এটিকে ‘মন্দির’ বললেও, সরকারি নথিতে এটি আসলে একটি ‘সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স’। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, সরকার কখনও মন্দির বা মসজিদ নির্মাণে সরাসরি সরকারি অর্থ ব্যয় করতে পারে না। তাঁর মতে, ভগবানের মন্দির হিন্দুরা তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত ভক্তি ও বিশ্বাস থেকে নির্মাণ করেন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে ঠিক একই রকম মন্দির নির্মাণের উদ্দেশ্য নিয়েও একাধিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। মালব্যর স্পষ্ট দাবি, পুরীর জগন্নাথ ধামের পবিত্রতা এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্তিকে অস্বীকার করার এক উদ্ধত ও পাপপূর্ণ প্রচেষ্টা হলো মুখ্যমন্ত্রীর এই দিঘা মন্দির নির্মাণ।

এদিকে, কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগই নয়, দিঘার জগন্নাথ দেবের মন্দির উদ্বোধনের কয়েকদিন আগেই একটি বড়সড় দুর্ঘটনাও ঘটে গেছে। গত শুক্রবার মন্দিরের নির্মাণ কাজের ‘ফিনিশিং টাচ’ দেওয়ার সময় উঁচু থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন এক নির্মাণকর্মী, আবিদ হোসেন নস্কর। এই দুর্ঘটনার জেরে ওই কর্মীর মুখ ও ডান হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। এই ঘটনার পর মন্দির চত্বরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। এরই মধ্যে ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।