পহেলগাঁও হামলায়, প্রমাণের খোঁজে এনআইএ, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, জোরদার অভিযান

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত সরকারের কঠোর পদক্ষেপে ইসলামাবাদে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে যেমন দায় অস্বীকার করে পাকিস্তান ‘নিরপেক্ষ তদন্তের’ দাবি জানাচ্ছে, তেমনই উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে ভারত।

পহেলগাঁও হামলার তদন্তে NIA, চলছে জোরদার অভিযান:

পহেলগাঁও সন্ত্রাস হামলার ঘটনাস্থলে গত ২৩ এপ্রিল থেকেই জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)-এর দলগুলি উপস্থিত থেকে প্রমাণের সন্ধানে কাজ করছে। সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থার আইজি, ডিআইজি এবং এসপি-র তত্ত্বাবধানে দলগুলি ২২ এপ্রিলের হামলার সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। দুপুর ২টোর দিকে পহেলগাঁওয়ের কাছে বৈশরণ মেডোতে ঘটে যাওয়া এই হামলায় একজন নেপালি নাগরিক সহ ২৬ জন পর্যটক নিহত এবং তিন ডজনেরও বেশি আহত হয়েছিলেন।

NIA একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলার ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করা সাক্ষীদের নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা এক সূত্রে গাঁথার জন্য বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ফরেনসিক এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় NIA দলগুলি প্রবেশ এবং প্রস্থান পয়েন্টগুলি নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করছে এবং জাতি অনুসারে করা এই ভয়াবহ হামলার নেপথ্যের ষড়যন্ত্র উন্মোচনের জন্য সমগ্র এলাকাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে searching করছে।

সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে:

পহেলগাঁও হামলার পর সন্ত্রাসীদের নিষ্ক্রিয় করার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীও সর্বোচ্চ সতর্কতায় বেশ কয়েকটি অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছে। উপত্যকা জুড়ে চলছে সেনাবাহিনীর অভিযান, বিশেষত দক্ষিণ কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রত্যাঘাত তীব্র হয়েছে।

এই অভিযানের অংশ হিসেবে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সাম্প্রতিক অভিযানে, নিরাপত্তা বাহিনী এবং জম্মু ও কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ হামলার সঙ্গে জড়িত আরও দুই সন্দেহভাজনের বাড়ি ধ্বংস করেছে। শোপিয়ান জেলার ছোটিপোড়া গ্রামের একটি বাড়ি ২২ এপ্রিলের হামলার সঙ্গে জড়িত একজন জঙ্গির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এছাড়াও, কুলগাম জেলার মুটালহামা গ্রামে জাকির আহমেদ গণি নামে পরিচিত আরেক সন্দেহভাজনের বাড়িও ধ্বংস করা হয়েছে, যিনি ২০২৩ সাল থেকে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন এবং পহেলগাঁও হামলায় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে গত শুক্রবার লস্কর-ই-তৈয়বা (LeT) জঙ্গি আদিল ঠোকর ওরফে আদিল গুরির বাড়িও ধ্বংস করা হয়েছিল। তিনি ২০১৮ সালে অবৈধভাবে পাকিস্তানে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরে ফিরে আসেন বলে জানা গেছে। পহেলগাঁও হামলায় জড়িত বলে মনে করা দুই লস্কর-ই-তৈয়বা জঙ্গির বাড়ি এর আগেই ধ্বংস করা হয়েছিল – ত্রাল, পুলওয়ামায় এবং অনন্তনাগে আদিল গুরির বাড়ি। আদিল গুরি অনন্তনাগ জেলার বিজবেহারা ব্লকের গুরি গ্রামের বাসিন্দা এবং তাকে ‘wanted’ ঘোষণা করে তার হদিশ দিলে ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে অনন্তনাগ পুলিশ। এই মামলায় দুই পাকিস্তানি নাগরিককেও সর্বাধিক wanted ঘোষণা করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে কাশ্মীর উপত্যকায় এ পর্যন্ত মোট ৯ জন সন্দেহভাজন জঙ্গির বাড়ি explosion-এ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হামলাকারী জঙ্গিদের খোঁজে ঘন জঙ্গল, পাহাড়ে চিরুনি তল্লাশি এবং ড্রোন নজরদারি চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা।

ভারতের কড়া পদক্ষেপ ও পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া:

পহেলগাঁও হামলার প্রতিক্রিয়ায়, ভারত সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি ‘স্থগিত’ (suspended) করার সিদ্ধান্ত এবং পাকিস্তানকে সিন্ধুর ‘এক ফোঁটাও জল’ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত। এছাড়াও ভারত পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করেছে এবং আটারি চেকপোস্ট বন্ধ করে দিয়েছে।

ভারতের এই কড়া পদক্ষেপের মুখে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ‘আন্তর্জাতিক তদন্তের’ দাবি জানালেও, পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে ভারত পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ ছড়াচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও LoC পরিস্থিতি:

পহেলগাঁও হামলার তীব্র নিন্দা করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং তদন্তে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি আরব ও ইরান ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে ভারত ও পাকিস্তান নিজেরাই সমাধানসূত্র খুঁজে বের করবে, তবে ভারতকে ‘পূর্ণ সমর্থন’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও তিনি দিয়েছেন। (PTI)

এদিকে, পহেলগাঁও হামলার পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত ও পাকিস্তানের সেনাদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষে কোনও হতাহতের খবর না থাকলেও, LoC বরাবর পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। (PTI)