‘রাঙামতি তীরন্দাজ’-এর সেটে মুখোমুখি রাঙা ও একলব্য, পর্দার রসায়ন বাস্তবেও কতটা?

স্টার জলসার ধারাবাহিক ‘রাঙামতি তীরন্দাজ’-এর গল্পে বর্তমানে টানটান উত্তেজনা। একের পর এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে রাঙামতি। ভরসার জায়গা একলব্যকে পাশে পেলেও, তাদের ভালোবাসার পথে এসে দাঁড়াচ্ছে নতুন নতুন বিপদ। এই মুহূর্তে ধারাবাহিকে কী হতে চলেছে, আর পর্দার বাইরেই বা কেমন সম্পর্ক মুখ্য দুই অভিনেতার? জানতে আজকাল ডট ইন পৌঁছে গিয়েছিল ১৩ নম্বর স্টুডিওতে, যেখানে চলছিল ‘রাঙামতি তীরন্দাজ’-এর শুটিং।
লাঞ্চ বিরতির পর মেকআপ রুমে চলছিল পরবর্তী দৃশ্যের প্রস্তুতি। সংলাপ ঝালিয়ে নেওয়ার ফাঁকেই সেখানে হাজির হলেন রাঙামতির চরিত্রের অভিনেত্রী মনীষা মণ্ডল। একলব্য অর্থাৎ নীলাঙ্কুর মুখোপাধ্যায়ের মেকআপ রুমে তখন জমে উঠল অফস্ক্রিন আড্ডা।
এই কয়েকদিনের শুটিংয়ে অফস্ক্রিনে তাঁদের বন্ধুত্ব কতটা গাঢ় হয়েছে? নীলাঙ্কুর কিছুটা মজার ছলেই জানালেন, “আমি আসলে একটু মুখচোরা স্বভাবের। গল্পে রাঙামতি আর একলব্যের প্রথমদিকে সহজভাবে মিল দেখানো হয়নি, তাই ভেবেছিলাম পর্দার বাইরেও একটু দূরত্ব রাখলে বোধহয় চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে সুবিধা হবে। কিন্তু মনীষা এত অভিযোগ করেছে যে আমি নাকি ওকে এড়িয়ে চলি, সেসব শুনে বাধ্য হয়েই বন্ধুত্ব করতে হয়েছে!”
নীলাঙ্কুরের কথা শুনে হেসে জিভ কেটে মনীষা বললেন, “আরে ধুর, আমি মোটেও ওরকম বলিনি! আমি চেয়েছিলাম সবাই মিলেমিশে থাকি, একসাথে আড্ডা দিই। ও সবসময় আমাকে নিয়ে লেগপুল করে।”
ধারাবাহিকে রাঙামতির জীবনে অনেক বিপদ আসে। শুটিংয়ে কঠিন দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে মনীষা কখনো ভয় পেয়েছেন কি? নায়িকার অকপট স্বীকারোক্তি, “অনেক challenging সিন করেছি। কখনও গাছে ওঠা, কখনও জলে ঝাঁপ দেওয়া, কখনও আগুনের খুব কাছাকাছি শুটিং। কিন্তু ফ্লোরের দাদা ও অন্যান্য টেকনিশিয়ানরা সবসময় এত সাহস জুগিয়েছেন যে ভয় লাগেনি। তবে প্রথম প্রথম নিজেকে প্রমাণ করার একটা চাপ ছিল, তাই হয়তো একটু নার্ভাস লাগত।”
জনপ্রিয়তা বাড়লে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সে কারণেই কি নীলাঙ্কুর ও মনীষা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্যভাবে আড়ালে রাখেন? নীলাঙ্কুর বললেন, “এতটা ভাবি না। এসব নিয়ে ভাবতে গেলে তো রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে ফোন switch off করে দিতে হয়, সেটা কি সম্ভব? তাই কে কী ভাবল বা বলল, তা নিয়ে মাথা ঘামাই না।” নীলাঙ্কুরের কথায় সম্মতি জানালেন মনীষাও।
ধারাবাহিকের TRP-র চাপ কতটা অনুভব করেন তাঁরা? একটু চুপ করে নীলাঙ্কুরের দিকে তাকিয়ে মনীষা বলেন, “আমরা আসলে চেষ্টা করে যাই। ধারাবাহিকটি শুরু থেকে যে জায়গাটা পেয়েছে, আমরা দুজনেই সেটা ধরে রাখার জন্য রোজ নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। বাকিটা তো সত্যি বলতে আমাদের হাতে নেই।”
‘রাঙা-একলব্য’ ছাড়াও নিজেদের পছন্দের জুটি কারা টিভিতে? প্রশ্নটা শেষ না হতেই নীলাঙ্কুর চটজলদি জবাব দিলেন, “তেজ-সুধা! এক কথায় ওরাই সেরা। কারণ আমি অভিনেতা হানি বাফনার খুব বড় ফ্যান।” মনীষার পছন্দের জুটি ভিন্ন, “আমার চোখে সেরা আঁখি-দেবার। অর্কপ্রভ এবং তিতিক্ষা, দু’জনকেই আমার ভীষণ ভালো লাগে।”
আড্ডা যখন জমে উঠেছে, তখনই হাজির হলেন মেকআপ আর্টিস্ট। পরবর্তী দৃশ্যের জন্য তৈরি হওয়ার ডাক। অগত্যা হাসি-মজার রেশ টেনে বিদায় নেওয়ার পালা। ‘রাঙা-একলব্য’ অর্থাৎ মনীষা ও নীলাঙ্কুরের এই অনস্ক্রিন রসায়ন এবং অফস্ক্রিন বন্ধুত্ব যে দর্শকদের পছন্দের অন্যতম কারণ, তা তাদের কথাতেই স্পষ্ট।