পাক হেফাজতে ভারতীয় জওয়ান, মুক্তি আলোচনা ব্যর্থ, মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কা

জম্মু ও কাশ্মীরে পাহালগামে পৈশাচিক হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এমনিতেই চরম tension বিরাজ করছে। এরই মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে এক ভারতীয় Border Security Force (BSF) জওয়ানের দুর্ঘটনাক্রমে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের হেফাজতে চলে যাওয়ার ঘটনায়। গত ২৩শে এপ্রিল পাঞ্জাবের ফিরোজপুর সেক্টরে patrolling করার সময় বিএসএফ জওয়ান পি.কে. শা BSF পোস্ট জালোকে ডোনার কাছে শূন্যরেখা (Zero Line) পার করে অসাবধানতাবশত পাকিস্তান ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পাক রেঞ্জার্স, সঙ্গে সঙ্গে তাকে আটক করে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে জওয়ানকে আটকের ছবিও প্রকাশ করে দেয়।

ঘটনার পর থেকেই জওয়ান পি.কে. শা-এর মুক্তির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়। বিএসএফ ও পাক রেঞ্জার্স আধিকারিকদের মধ্যে বেশ কয়েক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে, BSF সূত্রে সর্বশেষ খবর, গত ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময়ে জওয়ানের মুক্তির জন্য অনুষ্ঠিত তিনটি উচ্চপর্যায়ের পতাকা বৈঠকই দুর্ভাগ্যবশত ব্যর্থ হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহনকে এই ব্যর্থতার কথা জানিয়েছেন বিএসএফের মহাপরিচালক দিলজিৎ চৌধুরী।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাহালগামের নৃশংস ঘটনার পর ভারতের সম্ভাব্য কড়া পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় পাকিস্তান হয়তো এই জওয়ানকে আটকে রেখে একপ্রকার প্রতিরক্ষামূলক কৌশল নিয়েছে। তাকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এই tense পরিস্থিতির মধ্যেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আকাশপথ নিয়েও সংকট তৈরি হয়েছে। ভারতের কঠোর পদক্ষেপের পর পাকিস্তান ভারতের জন্য তাদের আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ভারত থেকে এবং ভারতে আসা বহু আন্তর্জাতিক বিমানের route পরিবর্তন করতে হচ্ছে, যা যাত্রীদের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।

পাকিস্তান আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় বিমান পরিবহন মন্ত্রক ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর জন্য একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে গত ২৬শে এপ্রিল। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিমান সংস্থাগুলোকে rerouting-এর কারণে যাত্রীদের flight path পরিবর্তন এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে হবে। rerouting-এর কারণে কোথায় জরুরি অবতরণ করতে হতে পারে, সে বিষয়েও যাত্রীদের আগে থেকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া, যাত্রীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা এবং পর্যাপ্ত খাবার ও জল সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে, rerouting-এর ফলে বিমান সংস্থাগুলির অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হবে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিটের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার হস্তক্ষেপ করে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখবে কিনা, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। নির্দেশিকায় বিমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কিট সহ অন্যান্য জরুরি সরঞ্জাম মজুত রাখার এবং জরুরি প্রয়োজনে যে বিমানবন্দরে অবতরণ করবে, সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত সরবরাহ করার কথাও বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে, পাহালগাম হামলার পর সীমান্তে এবং আকাশপথে ভারত-পাকিস্তান উত্তাপ ক্রমশই বাড়ছে।