শাহরুখ মান্নাত ছেড়ে চলে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত, জেনেনিন কেন?

মুম্বাইয়ের বান্দ্রার ব্যান্ডস্ট্যান্ড এলাকা মানেই বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের বিখ্যাত বাংলো ‘মান্নাত’। এই শহরে ঘুরতে আসা ভক্ত থেকে পর্যটকদের কাছে মান্নাত যেন এক অবশ্য দর্শনীয় স্থান। প্রিয় তারকাকে যদি একবার বাড়ির বাইরে দেখা যায়, সেই আশায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মান্নাতের সামনে ভিড় জমাতেন। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে সেই চিরচেনা দৃশ্য উধাও। শাহরুখ খান তার পরিবার ও স্টাফদের নিয়ে আপাতত মান্নাত ছেড়ে অন্য ঠিকানায় চলে গেছেন। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে তার বাড়ির আশপাশের এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপর। মান্নাতপাড়ায় লোকজনের ভিড় এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাওয়ায় তাদের ব্যবসায় চরম মন্দা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, মান্নাত বাংলোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজ প্রায় দুই বছর ধরে চলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সে কারণেই শাহরুখ তার স্ত্রী গৌরী, তিন ছেলে-মেয়ে আরিয়ান, সুহানা, আব্রাম সহ সিকিউরিটি এবং অন্যান্য স্টাফদের নিয়ে সাময়িকভাবে বাসস্থান পরিবর্তন করেছেন। বান্দ্রার পালি হিলের কাছে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে তাদের নতুন ঠিকানা হয়েছে।

শাহরুখের মান্নাতের সৌজন্যে ওই এলাকায় লোকজনের যে নিয়মিত আসা-যাওয়া এবং ভিড় ছিল, তা তার চলে যাওয়ার পর একদমই কমে এসেছে। ফলে মান্নাতপাড়ায় এখন যেন এক শুনশান নীরবতা বিরাজ করছে। এই ভিড়ের উপর নির্ভর করেই আশেপাশের অনেক ছোটখাটো দোকানদার ও হকারদের রুজি-রোজগার চলত। অভিনেতার বাড়ির বাইরে ভিড় জমানো অনুরাগীরা বা পর্যটকরা অপেক্ষারত অবস্থায় কাছের দোকান থেকে খাবার, জল বা কিছু স্যুভেনিয়ার কিনতেন। এখন আর তেমনটা হয় না।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, শাহরুখের চলে যাওয়ায় তাদের ব্যবসায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এলাকার এক আইসক্রিম বিক্রেতা বলেন, “মানুষ এখন জেনেই গেছেন শাহরুখ আর এখানে থাকছেন না। যে কারণে এই এলাকায় লোক আসা-যাওয়া অনেক কমে গেছে।” আরেকজন দোকানদারের কথায়, “আগে মানুষ মান্নাতের জন্য না আসলেও যাওয়া-আসার পথে অন্তত অটো বা ট্যাক্সি দাঁড় করিয়ে কিছুক্ষণ কাটাতেন, তাতেও কিছুটা ব্যবসা হতো। এখন তো কেউ আর দাঁড়ান না এখানে। আমাদের ব্যবসার ওপর যথেষ্ট প্রভাব পড়েছে এতে।”

সুতরাং, শাহরুখ খানের এই সাময়িক বাসস্থান পরিবর্তন কেবল ভক্তদেরই হতাশ করেনি, বান্দ্রার ব্যান্ডস্ট্যান্ড এলাকার স্থানীয় ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের রুজি-রোজগারেও বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। মান্নাত যেন আপাতত তার জৌলুস হারিয়ে এক নীরব প্রতীক্ষায় রয়েছে, যেদিন সংস্কার কাজ শেষে বাদশাহ তার নিজের বাড়িতে ফিরবেন এবং ফিরবে সেই পুরোনো ভিড় ও এলাকার ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি।