“সিন্ধু নদের জলের পথ আটকালে…..?”-চাপে পড়ে পহেলগাঁওকাণ্ডে ‘নিরপেক্ষ তদন্তে’ রাজি পাক প্রধামন্ত্রী

জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ চরম আকার ধারণ করছে। এই হামলার প্রেক্ষিতে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একের পর এক কঠোর কূটনৈতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৬০ সালের ‘সিন্ধু জল চুক্তি’ বাতিলের ঘোষণা। ভারতের এই কঠোর পদক্ষেপে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। অবশেষে নীরবতা ভেঙে মুখ খুললেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশের সিন্ধু জল কমে গেলে বা অন্য দিকে সরানোর চেষ্টা করা হলে ‘সর্ব শক্তি দিয়ে জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন।

শাহবাজ শরিফের হুঁশিয়ারি

পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ভারতের সিন্ধু জল চুক্তি বাতিলের ঘোষণার বিষয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “যদি পাকিস্তানের জল কমিয়ে দেওয়া হয় বা অন্য দিকে সরানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে পাকিস্তান সর্ব শক্তি দিয়ে এর জবাব দেবে।” ভারতের এই সিদ্ধান্তকে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

পাক প্রধানমন্ত্রী পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলায় একটি “নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের” জন্য তার সরকার প্রস্তুত বলে দাবি করেন। তিনি ভারতের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে আরও বলেন, “আমরা যেকোনও দুঃসাহসের জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এ ব্যাপারে কারওরই ভুল করা উচিত নয়। এটি ২৪ কোটি মানুষের দেশ, আমরা আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনীর পিছনে দাঁড়িয়ে আছি। এই বার্তাটি স্পষ্ট হওয়া দরকার।” শরিফ তার দেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে দাবি করেন, “শান্তি আমাদের অগ্রাধিকার। কিন্তু আমরা আমাদের সততা এবং নিরাপত্তার সঙ্গে কখনও আপস করব না।”

বিলাওয়াল ভুট্টোর আগেকার হুঁশিয়ারি

এর আগে, পাকিস্তানের অন্য এক প্রভাবশালী নেতা ও প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিও সিন্ধু জল নিয়ে অত্যন্ত কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সাখরে সিন্ধু নদীর তীরে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে বিলাওয়াল ভুট্টো বলেছিলেন, “হয় সিন্ধু নদীতে জল প্রবাহিত হবে, নয়তো তাদের রক্ত ​​প্রবাহিত হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে সিন্ধু নদী পাকিস্তানের এবং তাদেরই থাকবে।

বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, “আমি সিন্ধু নদীর কাছে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট করে বলতে চাই যে সিন্ধু নদী আমাদের ছিল, আমাদেরই এবং আমাদেরই থাকবে। শুধুমাত্র তাদের (ভারতের) জনসংখ্যা বেশি বলেই তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না যে এটি কার জল।” তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের জনগণ সাহসী এবং গর্বিত, তারা সাহসের সঙ্গে লড়াই করবে, সীমান্তে তাদের সেনাবাহিনী প্রতিটি আক্রমণের জবাব দিতে প্রস্তুত। নদি নিয়ে ‘ডাকাতি’ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং সিন্ধু নদীকে সমগ্র পাকিস্তানের একটি যৌথ ঐতিহ্য বলে অভিহিত করেন। দেশের জনগণের কাছে ঐক্যের আবেদন জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, প্রতিটি পাকিস্তানি সিন্ধুর বার্তা গ্রহণ করবে এবং বিশ্বকে বলবে যে নদির ডাকাতি গ্রহণযোগ্য নয়, শত্রুর চোখ আমাদের জলের উপর, পুরো জাতিকে একসঙ্গে এর জবাব দিতে হবে।

পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। জলবন্টন চুক্তির মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই ধরনের পাল্টাপাল্টি মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।