“বাংলাদেশিরা খুব লাফাচ্ছে, ওদের গঙ্গার জল…”-এবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন BJP সাংসদ

জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গোটা দেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে। এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার জড়িত থাকার প্রমাণ মেলার পর থেকেই ভারত সরকার ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও কড়া মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর পদক্ষেপ
পেহেলগাঁও হামলায় ২৬ জন পর্যটকের প্রাণহানির পর কেন্দ্রীয় সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়। এর অংশ হিসাবে:
১৯৬০ সালের ‘সিন্ধু জল চুক্তি’ বাতিল করা হয়েছে।আটারি চেকপোস্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।পাকিস্তানি নাগরিকদের সমস্ত ধরনের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তানের হাইকমিশনকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের সমস্ত প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত উপদেষ্টাকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সিন্ধু জল চুক্তি’ রদের এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে ১৯৬০ সালে এই চুক্তি সইয়ের প্রসঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে বিঁধে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, নেহরু নাকি নোবেল পুরস্কারের লোভে ‘সাপকে জল খাওয়াতেও’ রাজি ছিলেন।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিজেপি সাংসদের তোপ
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যখন দেশজুড়ে ক্ষোভ এবং সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখনই বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে তার এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি লেখেন, “বাংলাদেশও খুব লাফাচ্ছে, ওদেরও গঙ্গার জল বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আমাদের দেওয়া জল খাবে আর গুণগান গাওয়ার বেলায় পাকিস্তানের!”
নিজের মন্তব্যের স্বপক্ষে তিনি একটি ইংরেজি খবরের ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন এবং ক্যাপশনে লেখেন, “পাপীদের গঙ্গাজল?” উক্ত স্ক্রিনশটে যে প্রতিবেদনটি দেখা যাচ্ছে, তার সারমর্ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টা পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার ঠিক একদিন পরেই ঢাকায় লস্কর-ই-তৈয়বা (LeT)-র সিনিয়র অপারেটিভ ইজহার-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ডঃ আসিফ নজরুল এই বৈঠকটি করেন।
গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গ
বিজেপি সাংসদ যখন গঙ্গার জল বন্ধ করার কথা বলেছেন, তখন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তির বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল গঙ্গার জলের সুষম বন্টন করা। ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা ব্যারেজ তৈরির পর থেকেই জলবন্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, এই চুক্তি তার সমাধানের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। চুক্তিটির মেয়াদ ছিল ৩০ বছর এবং এটি আগামী ২০২৬ সালে শেষ হবে, অর্থাৎ খুব শীঘ্রই চুক্তি নবায়নের সময় আসছে। ফারাক্কা ব্যারেজ বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এর মূল লক্ষ্য ছিল হুগলি নদীর নাব্যতা বজায় রেখে কলকাতা বন্দরে জাহাজ চলাচল সচল রাখা। চুক্তি অনুযায়ী, গঙ্গার জলের পরিমাণ ৭০,০০০ কিউসেকের কম হলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমান পরিমাণে জল ভাগ হয়। জলের পরিমাণ ৭০,০০০ থেকে ৭৫,০০০ কিউসেকের মধ্যে হলে বাংলাদেশ ৩৫,০০০ কিউসেক পায় এবং বাকি জল ভারত ব্যবহার করে।
পহেলগাঁও হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারত। এরই মধ্যে একজন বিজেপি সাংসদের বাংলাদেশ বিরোধী মন্তব্য এবং একটি প্রতিবেদনের সূত্রে সেখানে জঙ্গি যোগের ইঙ্গিত উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এই ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।