“২৫ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে”-চাকরিহারা অশিক্ষক কর্মীদের মাসিক ভাতা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতার

রাজ্যের চাকরিহারা স্কুল শিক্ষাকর্মীদের জন্য মাসিক ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতের নির্দেশে চাকরি হারানো গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের আর্থিক দুরাবস্থার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শনিবার নবান্নের সভাঘরে চাকরিহারা গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, গ্রুপ সি পদে চাকরি হারানো শিক্ষাকর্মীদের মাসিক ২৫ হাজার টাকা করে ভাতা প্রদান করা হবে। অন্যদিকে, গ্রুপ ডি পদে চাকরি হারানো শিক্ষাকর্মীরা মাসিক ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, শ্রম দফতরের মাধ্যমে এই মাসিক ভাতা প্রদান করা হবে। শ্রম দফতরের অধীনে অনেক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প রয়েছে, সেই কারণেই এই দফতরের মারফত ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিনের বৈঠকে চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীরা তাঁদের কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী তাদের আশ্বাস দেন, শিক্ষকদের মতোই রাজ্য সরকার শিক্ষাকর্মীদের জন্যও রিভিউ পিটিশনে যাবে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন পাওয়ার সময়সীমা থাকলেও শিক্ষাকর্মীদের জন্য তেমন কোনো সংস্থান নেই, যা তাদের আর্থিক কষ্টের অন্যতম কারণ।

এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত মাসিক ভাতার পরিমাণ আরও ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানো যায় কিনা, সেই প্রস্তাবও দেন চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীরা।

এই একই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, কাশ্মীরে সম্প্রতি নিহতদের পরিবারপিছু রাজ্য সরকার ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেবে। কাশ্মীরে নিহত পর্যটক বিতান অধিকারীর সিনিয়র সিটিজেন মা-বাবাকে স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা প্রদান করা হবে এবং বিতানের স্ত্রী ও মা-বাবাকে ৫ লক্ষ টাকা করে সাহায্য দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। এছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রী জানান যে তিনি মে মাসের শুরুতেই মুর্শিদাবাদ যাবেন এবং সেখানে সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেবেন।

আদালতের রায়ে চাকরি হারানো হাজার হাজার স্কুল শিক্ষাকর্মী চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের মাসিক ভাতা প্রদানের এই সিদ্ধান্ত তাদের সাময়িক ভাবে কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।