‘গলা কেটে দেব,’ হাতের ভঙ্গিতে ভারতীয়দের বুঝিয়ে দিচ্ছে এক ব্যক্তি! লন্ডনের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তীব্র বিতর্ক

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় ২৬ জন নিরপরাধ পর্যটকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়ে তীব্র শোক ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় যখন শোকস্তব্ধ বিশ্ব, তখন বিদেশের মাটিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের এক আচরণ এবং এক ব্যক্তির অঙ্গভঙ্গি ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পর থেকেই ভারত সরকার সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখা, পাকিস্তানের নাগরিকদের ভিসা বাতিল করা সহ একাধিক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই আবহের মধ্যেই শুক্রবার লন্ডনে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন প্রবাসী ভারতীয়রা। ৫০০ জনেরও বেশি ব্রিটিশ হিন্দু এই প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা হাতে ভারতীয় পতাকা, ব্যানার এবং প্ল্যাকার্ড নিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন এবং এই ধরনের হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে তাদের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। নিহত নিরপরাধ মানুষগুলোর জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার দাবি জানান তাঁরা।

এই প্রতিবাদ সমাবেশের মধ্যেই পাকিস্তান হাইকমিশনের ভিতরের এক ব্যক্তির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জমা হচ্ছে। যদিও ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওর সত্যতা News18 Bangla স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করেনি। ভিডিয়োয় দেখা গেছে, পাকিস্তান হাইকমিশনের ভিতরে থাকা এক ব্যক্তি বাইরে বিক্ষোভরত ভারতীয়দের লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে ‘গলা কেটে দেওয়ার’ মতো ভয়ঙ্কর ভঙ্গি করছেন। তার হাতে ছিল ভারতীয় বায়ুসেনা অফিসার অভিনন্দন বর্তমানের ছবি, যিনি পুলওয়ামা হামলার পর পাক সেনার হাতে বন্দি হয়েছিলেন। পরে জানা যায়, ভিডিয়োয় দেখা ওই ব্যক্তি হলেন কর্নেল তৈমুর রাহত, যিনি লন্ডনে পাকিস্তান হাইকমিশনের উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত।

এই ঘৃণ্য ইশারার পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁদের দাবি, যখন বাইরে শোক ও ক্ষোভে ভারতীয়রা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন, তখন পাকিস্তান হাইকমিশনের ভিতরে নাকি জোরে জোরে উদযাপনের গান বাজানো হচ্ছিল। বিক্ষোভকারীরা এই ঘটনাকে চরম অসংবেদনশীল এবং নিহতদের প্রতি অবমাননাকর বলে বর্ণনা করেছেন।

বিক্ষোভকারীরা পাকিস্তান হাইমকমিশনের এই আচরণের তীব্র নিন্দা করে বলেন, “মানুষ যখন শোকে স্তব্ধ তখন তারা জোরে উদযাপনের গান বাজাচ্ছে। এটা অসংবেদনশীল। এটা আমাদের ক্ষততে আরও বেশি করে অবমাননার আঘাত হেনেছে।” তাঁরা আরও বলেন, “গোটা বিশ্ব যখন ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছে, তখন পাকিস্তান হাই কমিশনের এই আচরণ তাদের সহানুভূতি এবং মানবিক শিষ্টাচারের অভাবকেই স্পষ্ট করছে। তাদের এই অসংবেদনশীল আচরণকে ধিক্কার জানাই।”

প্রতিবাদ সভার আয়োজকদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আজকের প্রতিবাদ ছিল ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহি দেওয়ার দাবিতে। তবে, সবথেকে বিরক্তিকর ঘটনা হল, এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তারা জোরে জোরে গান বাজাচ্ছিলেন।”

লন্ডনে পাকিস্তান হাইকমিশনের আধিকারিকের এই আচরণ এবং হাইকমিশনের অভ্যন্তরে কথিত অসংবেদনশীল পরিবেশ, পহেলগাঁও হামলার পর দু’দেশের সম্পর্কে নতুন করে তিক্ততা যোগ করেছে এবং বিশ্বজুড়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এক বিক্ষোভকারী যেমন বলেছেন, “ওরা (পাকিস্তান) একটা জঙ্গি কারখানা গড়ে তুলেছে, যার জন্য পহেলগাঁওয়ে আমাদের ২৬ জন লোককে মরতে হল। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে জড়ো হয়েছি।” এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি আরও একবার প্রশ্নের মুখে পড়ল।