ব্যাংক একাউন্টে বেশি টাকা রাখলেই কি চার্জ? কী বলছে RBI এর নতুন নির্দেশিকা? বিস্তারিত জেনে নিন

সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে একটি খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) নাকি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট গ্রাহকদের জন্য নতুন একটি নিয়ম আনতে চলেছে। এই খবর অনুযায়ী, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট সীমার বেশি টাকা জমা রাখলে নাকি সেই অর্থের উপর অতিরিক্ত চার্জ ধার্য করা হতে পারে। এই জল্পনা দেশের লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের মনে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

প্রকাশিত খবরগুলিতে দাবি করা হয়েছে যে, দেশের কিছু নির্দিষ্ট সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংকে সেভিংস অ্যাকাউন্ট (Savings Account) এবং চলতি হিসাব (Current Account) উভয় ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে যদি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি টাকা থাকে, তাহলে ব্যাংকগুলি নাকি ‘ব্যালান্স মেইনটেনেন্স ফি’ বা ‘এক্সেস ব্যালান্স চার্জ’ নামে একটি অতিরিক্ত মাসুল নিতে পারবে।

এই সম্ভাব্য চার্জ বসানোর কারণ হিসেবে নাকি বাজারে অতিরিক্ত নগদ অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে মুদ্রাস্ফীতি রোধ করা, ব্যাংকের বিশাল আমানত পরিচালনার খরচ সামলানো এবং মানুষকে কেবল সঞ্চয় না করে লেনদেন বা বিনিয়োগে উৎসাহিত করার কথা বলা হচ্ছে। যদিও এই যুক্তির সঙ্গে গ্রাহক সুরক্ষার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে, যা কিছুটা স্ববিরোধী মনে হতে পারে। খবরে আরও একটি দাবি রয়েছে যে, গ্রাহকদের মোট আমানতের ২.৫% টাকা নাকি ব্যাংকগুলিকে নগদ আকারে সংরক্ষণ করতে হবে।

এই নিয়ম চালু হলে গ্রাহকদের অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। অনেকে হয়তো এখন থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তুলনামূলক কম টাকা রাখবেন, অতিরিক্ত অর্থ ফিক্সড ডিপোজিট (FD) বা অন্য কোনও লাভজনক বিনিয়োগ মাধ্যমে সরিয়ে নিতে পারেন। কিছু গ্রাহক হয়তো নিজেদের ব্যাংক বদলানোর কথাও ভাবতে পারেন। শোনা যাচ্ছে, এই নিয়মটি প্রথমে বড় বেসরকারি ব্যাংক যেমন HDFC Bank, ICICI Bank, Axis Bank-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলিতে শুরু হতে পারে এবং পরবর্তীতে কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করতে পারে।

গ্রাহকদের জন্য কিছু পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। নিজেদের ব্যাংকের নির্দিষ্ট নিয়ম ও সীমা ভালোভাবে জেনে নেওয়া, অতিরিক্ত অর্থের জন্য বিকল্প বিনিয়োগের কথা চিন্তা করা এবং ব্যাংক থেকে আসা অফিশিয়াল নোটিফিকেশনগুলিতে (SMS, Email) মনোযোগ রাখা জরুরি। এই চার্জ এড়াতে একই ব্যাংকে বেশি অ্যাকাউন্ট না খুলে টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে ভাগ করে রাখা, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে টাকা রেখে বাকিটা বিনিয়োগ করা, অথবা ডিজিটাল ওয়ালেট বা UPI ব্যবহার করে লেনদেন ও অর্থ সংরক্ষণের মতো উপায় অবলম্বন করার কথাও বলা হয়েছে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ধরনের খবর বা জল্পনা ছড়িয়ে পড়লেও ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক বা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বা চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। যে সূত্র থেকে খবরটি এসেছে, সেখানেই শেষে বলা হয়েছে যে, এই ব্যাপারে সরকারি তরফে কিছু জানানো হয়নি এবং সরকারি আদেশের জন্য অপেক্ষা করাই উচিত। তাই এই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়া তথ্যগুলোকে চূড়ান্ত না ধরে সরকারি ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।