হাহাকার! গ্রীষ্মের শুরুতেই প্রবল জলসঙ্কট, BDO অফিসে হাঁড়ি-কলসি নিয়ে বিক্ষোভ বাঁকুড়ায়

‘জল পাওয়া যাচ্ছে না’—রাজ্যে পানীয় জলের সংকট নিয়ে এমন অভিযোগ যাতে আর না ওঠে, তা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি জেলা শাসকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যসচিব। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশের পরেও পরিস্থিতির যে বিশেষ উন্নতি হয়নি, তার জ্বলন্ত প্রমাণ মিলল বাঁকুড়া জেলার খাতড়া শহরে। গ্রীষ্মের শুরুতেই প্রবল জলকষ্টে ভুগছে এই জঙ্গলমহলের মহকুমা শহরটি। বিশেষ করে শহরের জলডোবরা এলাকায় জলের জন্য চলছে তীব্র হাহাকার।
বাঁকুড়া জেলার অন্যান্য অংশের মতো খাতড়াতেও গত কয়েকদিন ধরে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। এই তাপপ্রবাহের প্রত্যক্ষ প্রভাবে মাটির নীচের জলস্তর বিপজ্জনকভাবে নেমে গেছে। আর এর ফলেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নলবাহিত পানীয় জল সরবরাহ সম্পূর্ণ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন খাতড়া শহরের জলডোবরা এলাকার শত শত পরিবার।
অভিযোগ, জলডোবরা অঞ্চলে এখনও পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়নি। রাস্তার ধারে কিছু পানীয় জলের ট্যাপ রয়েছে ঠিকই, কিন্তু গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলিতে জল আসা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। যেটুকু জল আসে, তা প্রয়োজনের তুলনায় এতটাই অপ্রতুল যে পরিবারের পানীয় জলের চাহিদা মেটানোও কঠিন হচ্ছে। এলাকার কিছু নলকূপ ছিল ভরসা, সেগুলোও প্রায়শই বিকল হয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, অবিলম্বে এলাকায় বাড়ি বাড়ি নলবাহিত পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া এবং জল সরবরাহকে নিয়মিত ও স্বাভাবিক করার দাবিতে বুধবার ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। জলডোবরা এলাকার মহিলারা রীতিমতো হাঁড়ি কলসি নিয়ে খাতড়া ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। তীব্র বিক্ষোভের মুখে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া এই আশ্বাস বাস্তবে কতটা দ্রুত কার্যকর হয় এবং পানীয় জলের সংকটে ভোগা সাধারণ মানুষ কবে নাগাদ স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে পান।