“উড়িয়ে দেওয়া হল লস্কর জঙ্গিদের একাধিক বাড়ি”-কাশ্মীরে অ্যাকশন মোডে ইন্ডিয়ান আর্মি

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত ২২শে এপ্রিলের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত এবং উপত্যকায় সক্রিয় সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ হিসেবে তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। এখনো পর্যন্ত পহেলগাঁও হামলার পর থেকে সক্রিয় লস্কর ক্যাডার সন্ত্রাসবাদীদের মোট ৫ জন জঙ্গির বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে পুলওয়ামায় সক্রিয় লস্কর-ই-তৈয়বার ক্যাডার এহসান আহমেদ শেখের দোতলা বাড়ি আইইডি বিস্ফোরণে ভস্মীভূত করা হয়েছে। পুলওয়ামার মুরানের বাসিন্দা এহসান ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে উপত্যকায় সক্রিয় ছিল। এছাড়াও, শোপিয়ানের ছোটিপোরা এলাকায় দু’বছর আগে লস্করে যোগদানকারী শাহিদ আহমেদের বাড়িটিও সম্প্রতি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পহেলগাঁও হামলার পর থেকে সক্রিয় লস্কর ক্যাডার সন্ত্রাসবাদীদের যে ৫টি ঘর এ পর্যন্ত উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন:
আদিল গোজরি (বিজবেহারা)
আসিফ শেখ (ত্রাল)
এহসান শেখ (পুলওয়ামা)
শহীদ কুট্টে (শোপিয়ান)
জাকির গনি (কুলগাম)
সর্বশেষ অভিযানে, গত রাতে কুলগামের কুইমোহে জাকির গনির ঘর উড়িয়ে দেওয়া হয়, সে ২০২৩ সালে লস্করে যোগ দিয়েছিল। এর পাশাপাশি, শুক্রবার রাতে বিজবেহারায় আদিল থোকারের বাড়িও নিরাপত্তা বাহিনী উড়িয়ে দেয়। এর আগে গতকাল ত্রালে আসিফ শেখের বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল।
নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপের লক্ষ্য মূলত পহেলগাঁও হামলার মূল চক্রী এবং সহায়তাকারীরা। অনন্তনাগ জেলার বিজবেহারার গোরি এলাকায় পাহেলগাঁও হামলায় জড়িত স্থানীয় সন্ত্রাসবাদী আদিল হুসেন থোকার ওরফে আদিল গুরি-র বাড়িতেও বোমা হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, আদিল ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীদের সহায়তা করেছিল। একইভাবে, ত্রালের বাসিন্দা আরেক স্থানীয় সন্ত্রাসবাদী আসিফ শেখও এই হামলায় জড়িত ছিল। জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন বুলডোজার ব্যবহার করে আসিফ শেখের বাড়িটি ভেঙে ফেলে।
সামরিক সূত্রে জানা গেছে, ২২শে এপ্রিল পহেলগাঁওতে চারজন লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি) সন্ত্রাসবাদীর একটি দল হামলা চালায় যারা একে-৪৭ রাইফেল এবং বডি ক্যামেরা পরেছিল এবং হিন্দু পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এই বর্বরোচিত হামলায় ২৬ জন প্রাণ হারান। এই সন্ত্রাসবাদীদের মধ্যে দুই স্থানীয় সন্ত্রাসবাদী ছিল বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে – আদিল হুসেন থোকার এবং আসিফ শেখ। সামরিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, আদিল ২০১৮ সালে আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে বৈধভাবে পাকিস্তানে গিয়েছিল এবং সেখানে সন্ত্রাসবাদী শিবিরে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। গত বছর সে জম্মু ও কাশ্মীরে ফিরে আসে। পহেলগাঁও হামলার কিছু প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, কিছু সন্ত্রাসবাদী পশতুন ভাষায় নিজেদের মধ্যে কথা বলছিল, যা পাকিস্তানি যোগের দিকে ইঙ্গিত করে। সূত্রের খবর, হামলায় জড়িত সব সন্ত্রাসবাদী পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্য ছিল। তবে, দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)ও এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সামরিক সূত্র জানিয়েছে যে টিআরএফ হল লস্কর-ই-তৈয়বার একটি ছায়া গোষ্ঠী।
সন্ত্রাসবাদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে এবং স্থানীয় সহায়কদের নির্মূল করতে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর এই অভিযান জোরকদমে চলছে। জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা এবং মদতদাতাদের বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।