যেমন কথা তেমন কাজ, স্থগিত হয়ে গেল ভারত-পাকিস্তানের সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি! দেখুন সেই মুহূর্তের ভিডিয়ো

যেমন কথা তেমন কাজ। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র প্রতিবাদে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল ভারত। আগে থেকেই ঘোষণা করা হয়েছিল, এই হামলার জবাবে ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি স্থগিত রাখা হবে। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করে রামবান জেলার চেনাব নদীর উপর অবস্থিত বাগলিহার হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার প্রজেক্টের বাঁধ থেকে জল ছাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল গত ২৩ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে এক উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকে। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এই প্রথমবার সিন্ধু জল বন্টন চুক্তিতে এমন ছেদ পড়লো। এমনকি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া চারটি বড় যুদ্ধের সময়ও এই চুক্তি বলবৎ ছিল।
পহেলগাঁও হামলার পর এটি ভারতের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক পদক্ষেপ। এর আগে ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলা বা ২০১৬ সালে উরি হামলার পরও ভারত সরাসরি এই চুক্তির উপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করেনি। তবে, ২০১৬ সালের উরি হামলার পরপরই প্রধানমন্ত্রী মোদী এক বৈঠকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে “জল এবং রক্ত একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না।”
#WATCH | India has suspended the Indus Waters Treaty with Pakistan following the Pahalgam terror attack
Visuals from the Baglihar Hydroelectric Power Project built on the Chenab River in Ramban, J&K pic.twitter.com/3qVBRiuzYz
— ANI (@ANI) April 25, 2025
ভারতের এই পদক্ষেপে পাকিস্তান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ভারতের এই পদক্ষেপকে ‘অ্যাক্ট অব ওয়্যার’ বা যুদ্ধের কাজ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বৈঠক শেষে এটিকে ‘অনুচিত’ কাজ আখ্যা দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের প্রায় ২৪ কোটি মানুষ এই জলের উপর নির্ভরশীল। তবে তাঁর এই মন্তব্যের মধ্যেই পাকিস্তানের দ্বিমুখী আচরণ স্পষ্ট হয়েছে, কারণ তিনি পহেলগাঁও হামলাকারী জঙ্গিদের ‘স্বাধীনতা সংগ্রামী’ বলে উল্লেখ করেছেন বলে খবর।
ভারতের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তানও বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করার ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ, পাকিস্তানি আকাশসীমায় ভারতীয় বিমানের প্রবেশাধিকার বাতিল এবং ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া। যদিও ভারত আগেই পাকিস্তানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে রেখেছিল এবং আটারি-ওয়াঘা সীমান্তও বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি, ভারতে অবস্থানরত পাকিস্তানি কূটনীতিক এবং নাগরিকদের দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছে ভারত।