“পাকিস্তানের কোষাগার খালি-হাতে ভিক্ষার বাটি”-ভারতের সামনে দাঁড়াতেই পারবে না পাক বাহিনী

গত ২২শে এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ভারত সরকার বেশ কিছু বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগসাজশ রয়েছে বলে মনে করছে ভারত, যা নিয়ে দেশের মানুষও ক্ষুব্ধ। এই আবহে বৃহস্পতিবার বিহারে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর ভাষণে বলেন, “সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের প্রভুরা তাদের কল্পনার চেয়েও বড় শাস্তি পাবে।” প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া বার্তায় পাকিস্তান স্বভাবতই ক্ষুব্ধ। এই মুহূর্তে পাকিস্তান নিজেই অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত এবং এর একটি বড় কারণ হল সন্ত্রাসবাদকে ক্রমাগত মদত দিয়ে যাওয়া। পাকিস্তান সর্বদা পর্দার আড়ালে থেকে সন্ত্রাসবাদকে মদত দিয়ে এসেছে। পহেলগাঁও হামলার পর পাকিস্তানকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য ভারত সরকার এমন কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে আরও দুর্বল করে তুলবে।
পাকিস্তানের দুর্দশার এই পরিসংখ্যান
অর্থনৈতিক দুর্দশার নিরিখে পাকিস্তান আজ ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতার ধারেকাছেও নেই। দেশটি বর্তমানে গভীর ঋণে জর্জরিত। এমনকি বহু বড় ব্যবসায়ীও পাকিস্তান ছেড়ে চলে গেছেন। বিশ্ব ব্যাঙ্ক বা আইএমএফের ঋণের উপর নির্ভর করেই পাকিস্তানের খরচ চলছে। গত বেশ কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান ক্রমাগত এই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির কাছে আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন জানাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে, পাকিস্তান আজ ভারতের সামনে কার্যত দাঁড়াতেই পারে না। ভারত যখন আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে, তখন পাকিস্তান প্রতিটি পয়সার জন্য আকুল। পাকিস্তানের ভুল নীতিই এই অবস্থার জন্য দায়ী। এখন ভারত সরকার এমন একটি কৌশল তৈরি করেছে যাতে পাকিস্তানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও দুর্দশাগ্রস্ত করা যায়।
ভারতের সামনে টিকবে না পাকিস্তান, এই পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ:
পরিসংখ্যানগুলি স্পষ্ট করে দেয় যে অর্থনৈতিকভাবে পাকিস্তান কতটা দুর্বল এবং ভারতের সামনে তাদের অবস্থান কোথায়।
- জিডিপির আকার: বর্তমানে ভারতের জিডিপি প্রায় ৩.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। যেখানে পাকিস্তানের জিডিপি মাত্র ৩৪০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ভারতের অর্থনীতি পাকিস্তানের চেয়ে প্রায় ১০ গুণেরও বেশি বড়। এই পরিসংখ্যানই পাকিস্তানের দারিদ্র্যের গভীরতা স্পষ্ট করে দেয়।
- জিডিপি বৃদ্ধির হার: বর্তমানে ভারতীয় অর্থনীতি বার্ষিক প্রায় ৬.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের জিডিপি বৃদ্ধির হার মাত্র ২ শতাংশ। পাকিস্তানের প্রায় সব শিল্পই এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা ভাবাই কঠিন।
- সামরিক বাজেট: সামরিক বাজেটের দিক থেকেও ভারতের ধারেকাছে নেই পাকিস্তান। ভারতের বর্তমান সামরিক বাজেট ৭৮.৭ বিলিয়ন ডলার, যেখানে পাকিস্তানের সামরিক বাজেট মাত্র ৭.৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ভারতের সামরিক বাজেট পাকিস্তানের তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি।
- মুদ্রাস্ফীতি: পাকিস্তানের মানুষ বর্তমানে চরম অনাহারের দ্বারপ্রান্তে। মুদ্রাস্ফীতি সেখানে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, খাদ্যদ্রব্য লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে। ২০২৪ সালে পাকিস্তানে গড় মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল প্রায় ২৪ শতাংশ, যেখানে ভারতে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ৪ শতাংশের কাছাকাছি।
- বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ: যখন দেশের কোষাগার নিজেই খালি, তখন পাকিস্তানের পক্ষে ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার কথা ভাবা অসম্ভব। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের কথা বললে, ভারতের কাছে বর্তমানে প্রায় ৬৭৮ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ রয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার মতো অবস্থাতেও নেই, তাদের রিজার্ভ মাত্র ৮ বিলিয়ন ডলার।
- শেয়ার বাজার: ভারত বনাম পাকিস্তান: শেয়ার বাজারের পরিসংখ্যানগুলিও ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের বেহাল অবস্থা স্পষ্ট করে দেয়। ভারতীয় শেয়ার বাজারের আকার বর্তমানে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। যেখানে পাকিস্তানের শেয়ার বাজারের বাজার মূলধন ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও কম। রিটার্নের কথা বলতে গেলে, গত ১০ বছরে, ভারতীয় শেয়ার বাজার প্রায় ১৮০ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে। যেখানে একই সময়ে, পাকিস্তানি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীরা সবেমাত্র ৩৫-৪০ শতাংশ রিটার্ন পেয়েছেন। বার্ষিক রিটার্নের ক্ষেত্রেও ভারতীয় শেয়ার বাজার প্রায় ১৩ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে, যেখানে পাকিস্তানের শেয়ার বাজার ৪-৫ শতাংশ রিটার্ন জেনারেট করতে সক্ষম হয়েছে।
এই পরিসংখ্যানগুলিই প্রমাণ করে যে, ভারত সরকার যদি পাকিস্তানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তবে পাকিস্তানের পক্ষে তার মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব। সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়ার ফল যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, পাকিস্তান এখন সেটাই অনুভব করছে।