“মেয়েটি কিছু পোস্ট করেছিল…”-জঙ্গি হামলা নিয়ে পোস্ট করায় নিগ্রহের শিকার তরুণী, কী বলছে পুলিশ?

কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনায় গোটা দেশ যখন শোকস্তব্ধ এবং সমাজমাধ্যমে অনেকেই নিজেদের আবেগ প্রকাশ করছেন, সেই সময় ফেসবুকে এমনই একটি পোস্ট করে নিগৃহীত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন উত্তর ২৪ পরগনার এক তরুণী। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার পোস্ট নিয়ে হুমকির মুখে পড়েছেন এবং থানা থেকে সেই পোস্ট মুছে ফেলার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয়েছে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, ওই পোস্টে যা লেখা হয়েছিল, তা ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারত, সেই কারণেই পোস্ট ডিলিট করতে বলা হয়েছিল।

ঘটনাটি ঘটেছে অশোকনগর থানার চার নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলা এলাকায়। ওই এলাকার বাসিন্দা এক কলেজ ছাত্রী কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি পোস্ট করেছিলেন। এর পরেই তার অভিযোগ, সমাজমাধ্যমে দুই যুবক তাকে প্রাণে মারার হুমকি দেয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে তরুণী পুরো বিষয়টি একটি ভিডিয়োর মাধ্যমে সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেন, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তাকে বিভিন্ন প্রোফাইল থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তরুণীর সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, বৃহস্পতিবার রাতে অশোকনগর থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ কর্মী তার বাড়িতে আসেন এবং ওই পোস্টটি মুছে ফেলার জন্য তাকে চাপ দিতে থাকেন। চাপের মুখে বাধ্য হয়ে তিনি পোস্টটি তুলে দেন। পুলিশের এই ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তরুণী প্রশ্ন তুলেছেন, কেন পুলিশ তাকে সাহায্য না করে পোস্ট মুছতে চাপ দিল।

এদিকে, যে ব্যক্তিরা তাকে সমাজমাধ্যমে হুমকি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ওই তরুণী অশোকনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আবারো প্রশ্ন তুলেছেন।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খারিয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মেয়েটি কিছু পোস্ট করেছিল, যেটা সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। তাই পোস্ট মুছে দিতে বলা হয়। কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।”

ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পর প্রতিবাদী ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) স্থানীয় নেতৃত্ব।

অন্যদিকে, অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভার পুরপ্রধান প্রবোধ সরকার বলেছেন, কাশ্মীরে যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এর প্রতিবাদ জানানোর অধিকার সকলের আছে। এতে কারো সমস্যা থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, প্রশাসনকে কোনো পক্ষের হয়ে কাজ না করে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা উচিত। যারা এই ধরনের কাজ করেছেন, তাদের বিষয়টি যাচাই করে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। পুরপ্রধান অবশ্য এও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সমাজমাধ্যমের কোনো পোস্ট যদি প্রতিবাদের নামে মৌলিক অধিকার খর্ব করে, সেক্ষেত্রে প্রশাসন যথাযোগ্য ব্যবস্থা নিতেই পারে।

সামাজিক মাধ্যমে একটি প্রতিবাদী পোস্ট ঘিরে হুমকি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া— সব মিলিয়ে অশোকনগরের এই ঘটনা এখন আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দুতে। পুলিশ জানিয়েছে তারা হুমকির ঘটনার তদন্ত করছে।