“ধুমধাম করে শুরু হলো কলসযাত্রা”-দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে প্রাক মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন

দিঘায় নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের শুভ উদ্বোধনের ঢাকে কাঠি পড়ে গেল শুক্রবার। আগামী ৩০ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্য তিথিতে মন্দিরের মূল দ্বার উন্মোচন হবে। তার আগে থেকেই শুরু হয়ে গেল প্রাণ প্রতিষ্ঠার পূর্বে প্রয়োজনীয় প্রাক মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান। এদিন মন্দিরে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আচার ‘কলস যাত্রা’ সম্পন্ন হয়।
শুক্রবার দুপুর থেকে দিঘার সুকনার কাছে মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এই কলস যাত্রায় ২০ জন মহিলা ভক্ত মঙ্গলঘট হাতে নিয়ে অংশ নেন। তারা প্রথমে গর্ভগৃহ প্রদক্ষিণ করেন এবং পরে পুরো মন্দির চত্বর প্রদক্ষিণ করেন। এই সময় বেজে ওঠে মঙ্গলশঙ্খ, যা এক পবিত্র আবহ তৈরি করে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং তার ‘এক্স’ (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডলে এই কলস যাত্রার কথা জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী তার পোস্টে লেখেন, “ভক্তরা কলস যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। প্রাণ প্রতিষ্ঠা হবে। অক্ষয় তৃতীয়ায় শুভ উদ্বোধন।” যা এই অনুষ্ঠানের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রাণ প্রতিষ্ঠার আগে বেশ কিছু আচার অনুষ্ঠান পালন করা হয়, যার মধ্যে কলস যাত্রা একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অংশ।
মন্দিরের উদ্বোধন ও প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি তদারকি করার জন্য ইতিমধ্যেই পুরীর মূল মন্দিরের সেবায়েত রাজেশ দ্বৈতাপতি দিঘায় এসে পৌঁছেছেন। তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সমস্ত আয়োজন খতিয়ে দেখছেন। এদিন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক নেহা বন্দ্যোপাধ্যায়, রামনগর- ১ ব্লকের বিডিও পূজা দেবনাথ-সহ প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
মন্দিরের সামনে ‘চৈতন্যদ্বার’ তৈরির কাজও জোরকদমে চলছে। মূল মন্দিরের অরুণ স্তম্ভের পূর্ব দিকে তিনটি খড়ের চালা নির্মাণ করা হয়েছে। এই স্থানটিতেই যজ্ঞের আয়োজন করা হবে। যজ্ঞের জন্য বিশেষ অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরাও এদিন মন্দিরের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে আসেন। পুরো মন্দিরটিকেই এখন রংবাহারি আলোয় সুসজ্জিত করা হয়েছে।
শুধু মন্দির নয়, জগন্নাথদেবের আগমন উপলক্ষ্যে গোটা দিঘাই নতুন করে সেজে উঠেছে। রাস্তার ধারে গাছ, বাড়ি এবং ল্যাম্প পোস্টগুলিতেও লাগানো হয়েছে মিনিয়েচার আলো ও সাজসজ্জার উপকরণ। বহু পুরোনো দেওয়ালে পড়েছে নতুন রঙের পোঁচ। আগামী ৩০ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার আগের দিন, অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল থেকেই মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়ে যাবে। এখন শুধু অপেক্ষা উদ্বোধনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের।