ভেজাল দুধকাণ্ডে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা, অভিযুক্ত শাসক ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীও

হুগলি জেলার পোলবা থানা এলাকায় দুধে ভেজাল মেশানোর ঘটনায় এবার সরাসরি নাম জড়াল তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতার। এই ঘটনায় তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা বিপ্লব সরকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয়। অভিযোগ, দুধে রাসায়নিক মিশিয়ে তার পরিমাণ বাড়িয়ে সেই ভেজাল দুধ বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল, আর এই চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ওই তৃণমূল নেতা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৩ এপ্রিল। পোলবা থানার হোসনাবাদ এলাকার একটি হোটেলে দুধে ভেজাল মেশানোর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে একটি দুধের ট্যাঙ্কার এবং একটি ছোট গাড়ি আটক করা হয়। সে সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনায় পোলবা থানায় মোট সাতজনের বিরুদ্ধে একটি FIR দায়ের করা হয়েছিল। সেই FIR-এর তালিকায় তৃণমূল নেতা বিপ্লব সরকারের নামও ছিল। এবার তাঁকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। FIR-এ শাসক দল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ব্যবসায়ী সোনা শীলের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভেজাল দুধের মতো জনস্বাস্থ্য-বিরোধী গুরুতর অপরাধে তৃণমূল নেতার নাম জড়ানোয় তীব্র কটাক্ষ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা। বিজেপির সপ্তগ্রাম মণ্ডলের সভাপতি অর্ঘ্য চক্রবর্তী এই বিষয়ে বলেন, “যে দুধ শিশুরা খায়, সেই দুধে কেমিক্যাল মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করা হত। রাজহাট পঞ্চায়েতের হোসনাবাদের একটা হোটেলে এই কারবার চলছিল।” তিনি তৃণমূলকে আক্রমণ করে আরও বলেন, “তৃণমূল শিক্ষা ব্যবস্থাকে শেষ করেছে, এবার ছোট শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না।”
শিশুদের খাবারে ভেজাল মেশানোর মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় তৃণমূল নেতার গ্রেফতারি এবং এই নিয়ে বিজেপির তীব্র সমালোচনা, সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে হুগলির রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই চক্রে আর কে কে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।