পহেলগাঁও হামলার পর সরব দিলীপ ঘোষ ! নাম না করে জানিয়ে দিলেন হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী কে?

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে নিরীহ পর্যটকদের উপর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজেপি নেতা এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। একইসঙ্গে তিনি উপত্যকার বর্তমান নির্বাচিত রাজ্য সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচিত সরকার কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলেই এমন নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার কলকাতার নিউ টাউনে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেন, ৩৭০ ধারা রদ হওয়ার প্রায় ৬ বছর কেটে গেছে। এই সময়ে তিনি নিজে দু’বার কাশ্মীর ঘুরে এসেছেন – একবার লে-লাদাখ এবং একবার অমরনাথ। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষের (পর্যটকদের) ঢল নেমেছিল এবং কোনো সমস্যা ছিল না। তিনি বলেন, যেখানে মানুষ নির্বাচন চেয়েছিল, সেখানে কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই কেন সেখানে গুলির ঘটনা ঘটছে? এমন একটি বড় বিপর্যয় কেন এই সরকারের আমলে হল, যার জেরে গোটা দেশ কেঁপে উঠেছে? দিলীপ ঘোষ বলেন, কেন্দ্র সরকার সঙ্গে সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠিয়েছে, কিন্তু রাজ্য সরকার পরিস্থিতি সামলাতে পারেনি।

দিলীপ ঘোষ মনে করেন, এই হামলার পিছনে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁর মতে, ৩৭০ ধারা রদের পর কাশ্মীরে মানুষের হাতে কাজ এসেছে, অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং যুব সমাজ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইছে। এই পরিস্থিতি সন্ত্রাসবাদীরা মেনে নিতে পারছিল না, কারণ কেউ হাতে বন্দুক তুলে নিতে রাজি হচ্ছিল না। তাই পর্যটকদের নিশানা করে তাদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে উপত্যকায় তাদের আসা বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে স্থানীয়দের আবার বন্দুক বা পাথর হাতে তুলে নিয়ে দেশবিরোধী কাজে যুক্ত হতে বাধ্য করা যায়। দিলীপের মতে, কয়েকজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা এই চেষ্টা করে খুব বেশি সুবিধা করতে পারবে না, কারণ গোটা দেশ এবং কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ এখন একসঙ্গে দেশের পাশে আছে।

প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে কেন্দ্রীয় সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, এর আগেও সরকার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মতো পদক্ষেপ নিয়েছিল। তাঁর ধারণা, এবারও সরকার সেরকমই কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি বলেন, “মোদীর উপর ভরসা রাখা উচিৎ।” দিলীপ ঘোষ তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিতে বলেন, “সাপের মাথা মোদী থেঁতলে দিয়েছে, মাঝে মাঝে শুধু লেজটা নড়ে উঠছে।” এই মন্তব্য করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদ প্রায় নির্মূল হলেও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে।

নিহত পর্যটকদের আত্মার শান্তি কামনা করে দিলীপ ঘোষ বলেন যে, এই কঠিন সময়ে গোটা দেশ একসঙ্গে লড়বে। তিনি মনে করেন, জঙ্গিরা জঙ্গল বা গ্রামের পথ ধরে এসেছে, যার মানে তাদের কেউ না কেউ সহযোগিতা করেছে। সেই সহায়তাকারীরাও সামনে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদের বিষ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আসছে (“ওপার থেকে”)। তবে সরকার চেষ্টা করছে যাতে এমন ঘটনা দ্বিতীয়বার না ঘটে। দিলীপ ঘোষ তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কাশ্মীরকে ‘ভূস্বর্গ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বিশ্বাস করেন যে এই মুহূর্তে গোটা বিশ্ব ভারতের পাশে আছে। তাঁর আশা, পহেলগামের এই হামলা কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের শেষ হিংসাত্মক ঘটনা হবে।