হিন্দু হয়েও কোন ‘বুদ্ধির জোরে’ স্ত্রী ও ছেলে সহ প্রাণে বেঁচে ফিরলেন দেবাশিস? জানালেন নিজেই

কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে এসেছেন পর্যটকরা। গত মঙ্গলবার पहलগামের বৈসরণ উপত্যকায় এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ২৬ জন পর্যটক। প্রাণে বেঁচে ফেরা পর্যটকদের মুখে উঠে আসছে হাড়হিম করা সব মুহূর্তের কথা। কেউ বলছেন, সিঁদুর দেখে গুলি করা হয়েছে, কেউ বলছেন নাম জিজ্ঞেস করে মারা হয়েছে, আবার কেউ বলছেন, কলমা বলতে না পারায় প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক দেবাশিস ভট্টাচার্য সপরিবারে ঘুরতে গিয়ে অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে কলমা পড়ে তিনি নিজের জীবন বাঁচিয়েছেন। দেবাশিসবাবু বলেন, মঙ্গলবার তাঁরা যখন বৈসরণ উপত্যকায় ঘুরছিলেন, তখনই জঙ্গিরা সেখানে পৌঁছায় এবং লোকজনের ধর্মপরিচয় জানতে চায়। এরপরই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে তারা। অধ্যাপক তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে একটি গাছের নিচে লুকিয়ে পড়েন। তিনি দেখেন, আশেপাশে অনেকেই প্রাণের ভয়ে কালমা পাঠ করছেন। তাদের দেখে তিনিও কালমা পড়া শুরু করেন।

ভয়ে কাঁপতে থাকা দেবাশিসবাবুর সামনে এসে দাঁড়ায় এক জঙ্গি। অধ্যাপক কী করছেন জানতে চায় সে। দেবাশিসবাবু উত্তর না দিয়ে আরও জোরে জোরে কালমা পড়তে থাকেন। এরপরই জঙ্গিটি সেখান থেকে চলে যায়। অধ্যাপক জানান, তিনি আগে থেকেই অল্পবিস্তর কালমা জানতেন। এই ঘটনার পর তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার জঙ্গিদের গুলিতে নিহত ২৬ জন পর্যটকের মধ্যে পুণের একটি ব্যবসায়ী পরিবারও ছিল। তবে সেই ব্যবসায়ী নিজে প্রাণে বাঁচতে পারেননি। নিহত ব্যবসায়ীর মেয়ে জানিয়েছেন, জঙ্গিরা তাঁর বাবাকে কলমা পড়তে বলেছিল। কিন্তু তিনি তা পড়তে না পারায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।