“সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মতো কিছু হলে…?”-আতঙ্কে রয়েছে পাকিস্তান? বৈঠক ডাকলেন শাবাজ শরিফ

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় নিরীহ পর্যটকদের উপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ভারত প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক ‘বড় পদক্ষেপ’ নিয়েছে বলে খবর। এর মধ্যে ১৯৬০ সালের সিন্ধু নদের জলের চুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করার মতো অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে পাকিস্তানে তীব্র আতঙ্ক এবং উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতের এই পদক্ষেপের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বৃহস্পতিবার জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির (NSC) একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ভারতের বিবৃতির জবাব দিতেই এই বৈঠক বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। পাকিস্তানি চ্যানেল হাম নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আশা করি ভারত সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মতো কোনও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ’ নেবে না। তিনি আরও বলেন, যদি ভারতের পক্ষ থেকে কোনও চাপ বা আক্রমণ আসে, তবে আমরা তার জবাব দেব। এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ থাকা উচিত নয়। খাজা আসিফ বিগত সময়ে ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, এখনই কোনও বিষয়ে অনুমান করতে চান না, তবে আশা করেন ভারত এমন কোনও পদক্ষেপ নেবে না যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলবে।
হামলার কারণ এবং সুবিধাভোগী কারা হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন যে তিনি এর উত্তর দিতে পারবেন না কারণ বিদেশ মন্ত্রক বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, কাশ্মীরে ভারতের ৭ লক্ষেরও বেশি সেনা রয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত সেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনী কী করছে।
জানা গেছে, এই হামলার জেরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত পাঁচটি কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এগুলি হল:
১. ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পাঞ্জাবের আটারি সীমান্ত চেকপোস্ট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এটি দুই দেশের মধ্যে সীমিত চলাচলকেও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেবে।
২. পাকিস্তানে অবস্থিত ভারতের দূতাবাস এখন থেকে বন্ধ থাকবে।
৩. সিন্ধু জল চুক্তিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
৪. ভারতে উপস্থিত সকল পাকিস্তানি কূটনীতিককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫. এখন থেকে পাকিস্তানি নাগরিকরা ভারতীয় ভিসা পাবেন না।
সব মিলিয়ে পহেলগাঁও হামলার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভারতের তরফে নেওয়া এই কঠোর পদক্ষেপগুলি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সীমিত সম্পর্ককেও আরও তলানিতে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানানো হলেও, ভারতের কঠোর অবস্থান এবং পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।