BJP-তে ‘ভরসা’ রাখা বিতানের স্ত্রীকে কুনালের কটাক্ষ, পোস্টে লিখলেন, ‘দ্বিচারিতার নাটক’

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় জঙ্গি হামলায় নিহত কলকাতা নিবাসী বিতান অধিকারীর মরদেহ বুধবার রাতে কলকাতায় পৌঁছলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব। অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মৃতের স্ত্রীর বয়ান এবং রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্য ঘিরে ভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
জানা যায়, কর্মসূত্রে ফ্লোরিডায় কর্মরত ছিলেন বিতান অধিকারী। সম্প্রতি স্ত্রীকে নিয়ে কাশ্মীর ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই মঙ্গলবার এক জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান বিতান। পরিবারের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তার নিথর দেহ ফিরেছে কফিনে। হামলার সময় বিতানের স্ত্রী সোহিনী অধিকারী সেখানেই উপস্থিত ছিলেন এবং নিজের চোখের সামনে স্বামীকে খুন হতে দেখেছেন বলে জানা গেছে। স্বামীর মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে এবং কলকাতা বিমানবন্দরে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বিমানবন্দরে শুভেন্দু অধিকারী শোকস্তব্ধ সোহিনী অধিকারী এবং তাঁর সন্তানকে সান্ত্বনা জানান। শুভেন্দু অধিকারী বিতানের ছোট্ট ছেলেকে কোলে তুলে নেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে সোহিনী দেবী কাঁদতে কাঁদতে বলেন যে তাঁর স্বামী শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্যান্য বিজেপি নেতাদের খুব মানতেন এবং তিনি তাঁদের উপর ভরসা রেখেই ফিরেছেন। তিনি তাঁর স্বামীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “হিন্দুস্তানে হিন্দুকে খুন করবে! গাজা শেষ হয়েছে। ইজরায়েল শেষ করেছে। আমরাও শেষ করব। মোদীর শিষ্য আছি।” বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সহ অন্যান্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং সোহিনী দেবীকে সান্ত্বনা দেন। শুভেন্দু অধিকারীর ফেসবুক পেজ থেকে এই সময়ের লাইভ সম্প্রচারও করা হয়।
তবে, বিতান অধিকারীর স্ত্রীর বয়ান এবং রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট করে সোহিনী অধিকারীর বক্তব্যের ভিন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কুণাল ঘোষের দাবি, প্রথমে সোহিনী দেবী সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন হামলাকারীরা হিন্দু-মুসলমান বেছে মারেনি, কিন্তু পরে বিজেপি নেতাদের সামনে তিনি বলেন হিন্দু বলেই তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিতানের পরিবারের প্রতি সব ধরনের সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন।
কুণাল ঘোষ তাঁর পোস্টে প্রয়াত বিতান অধিকারীর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের অসহায় অবস্থার কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, বিতানের বাবা-মা ঘোরতর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন এবং তাঁদেরও সাহায্য প্রয়োজন। তিনি দাবি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার যদি বিতানের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে, তবে তা যেন শুধু স্ত্রীকেই না দিয়ে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মাকেও দেওয়া হয়। তিনি সরাসরি রাজনৈতিক নাটক এবং শেখানো সংলাপের সমালোচনা করলেও, বর্তমান শোকের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে বিস্তারিত কিছু বলছেন না বলে জানান।
কাশ্মীর উপত্যকায় এই জঙ্গি হামলায় এক বাঙালি যুবকের অকাল মৃত্যু রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। একদিকে যেখানে মৃত পরিবার ন্যায়বিচার ও হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছে, वहीं दूसरी ओर राजनीतिक दल इस घटनाকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছে। গোটা ঘটনার প্রেক্ষিতে বিতান অধিকারীর পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের নিরাপত্তা ও সহায়তার বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে।