বিশেষ: কাশ্মিরে হামলার দায় নেওয়া ‘TRF’ জঙ্গি আসলে কারা? কিভাবে হয় এই গোষ্ঠির জন্ম?

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে বন্দুক হামলা চালিয়ে ২৬ জন নিরপরাধ মানুষকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে সেখানকার তুলনায় স্বল্প পরিচিত একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF) নামের এই গোষ্ঠীটির অতীত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য পাওয়া না গেলেও, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর ভারতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার দায় স্বীকার করে তারা এবার ব্যাপকভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। কারা এই টিআরএফ, এদের জন্মই বা কেন এবং এদের কর্মকাণ্ডই বা কী? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
টিআরএফ কারা?
দিল্লি-ভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়া টেররিজম পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী টিআরএফের আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০১৯ সালে। টিআরএফকে মূলত পাকিস্তান-ভিত্তিক কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইয়্যেবার (LeT) একটি অনুসারী বা শাখা সংগঠন হিসেবে মনে করা হয়। ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনের বিভিন্ন ফোরামে টিআরএফ ‘কাশ্মীর রেজিস্ট্যান্স’ (Kashmir Resistance) নামটিও ব্যবহার করে থাকে। গত মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল)কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের ভয়াবহ হামলার দায় তারাই স্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, লস্কর-ই-তইয়্যেবা যুক্তরাষ্ট্রের নিষিদ্ধঘোষিত বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় রয়েছে। ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ের বহুল আলোচিত তিন দিনের প্রাণঘাতী হামলাসহ ভারত ও পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় হামলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে এই দলটির জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
সাউথ এশিয়া টেররিজম পোর্টালের প্রধান আজাই সাহনি বলেছেন, টিআরএফ মূলত লস্কর-ই-তইয়্যেবারই একটি অংশ বা শাখা সংগঠন। গত কয়েক বছরে এই ধরনের বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান যখন ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (FATF) চাপে ছিল এবং তারা আন্তর্জাতিক মহলের সামনে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা চালাচ্ছিল, ঠিক সেই সময়েই এই ধরনের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলির জন্ম হয়েছে।
টিআরএফ কী করেছে?
সাহনির মতে, এই গোষ্ঠীটি এর আগে নিজেদের জড়িত থাকার কথা সেভাবে স্বীকার করেনি বা বড় কোনও ঘটনার দায় নেয়নি। তিনি আরও বলেন, লস্কর-ই-তইয়্যেবার নির্দেশেই মূলত টিআরএফ মাঠে নেমে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে থাকে। কাশ্মীরের মাটিতে তারা যেখানে হামলা করেছে, সেই অভিযানগুলোর বিষয়ে সমস্ত নির্দেশনা লস্কর-ই-তইয়্যেবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকেই এসেছিল।
টিআরএফকে নিয়ে কী বলছে ভারত?
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালে দেশটির সংসদে জানিয়েছিল, এই গোষ্ঠীটি জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার পরিকল্পনায় সক্রিয়ভাবে জড়িত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায় যে, এই গোষ্ঠীটি নতুন সদস্য নিয়োগের পাশাপাশি সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র এবং মাদকদ্রব্যের চোরাচালানেরও সমন্বয় করে থাকে। ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, গত দুই বছর ধরে টিআরএফ উপত্যকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনলাইনে লাগাতার হুমকি দিয়ে আসছে। পহেলগাঁও হামলার দায় স্বীকারের পর এই গোষ্ঠীর কার্যকলাপের উপর নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।