আসছে ‘ছায়াশূন্য’ দিন! বেঙ্গালুরুতে ঠিক ১২.১৭ মিনিটে থাকবে না কোনও বস্তুর ছায়া, জেনেনিন দিনটি কবে?

বছর দুবার ঘটে এমন এক বিরল ও আকর্ষণীয় জ্যোতির্বিদ্যাগত ঘটনা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ আসছে। এই বিশেষ দিনটিকে বলা হয় ‘ছায়াশূন্য দিন’ বা ‘শূন্য ছায়ার দিন’। এই দিনে সূর্য যখন ঠিক মাথার উপরে থাকে, তখন কোনও বস্তুর বা ব্যক্তির কোনও দৃশ্যমান ছায়া দেখা যায় না।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের (IIA) বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ আগামী ২৪শে এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে বেঙ্গালুরুতে এই শূন্য ছায়ার ঘটনা দেখা যাবে। বেঙ্গালুরুর স্থানীয় সময় অনুযায়ী সেদিন দুপুর ঠিক ১২টা বেজে ১৭ মিনিটে (১২.১৭ PM) এই বিরল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা যাবে। সেই অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার দুপুরে সূর্য যখন ঠিক মাথার উপরে উল্লম্বভাবে অবস্থান করবে, তখনই এই ‘শূন্য ছায়া’র ঘটনা দেখা যাবে।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে এবং নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অক্ষাংশে বছরের মাত্র দুটি দিনে সূর্য ঠিক দুপুরবেলা (স্থানীয় মানমন্দির সময় অনুযায়ী) বিষুব রেখার সাথে ৯০ ডিগ্রি কোণ করে অবস্থান করে। এই সময় কোনও বস্তুর ছায়া সরাসরি তার ঠিক নীচেই পড়ে যায়। ফলে দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন কোনও ছায়া নেই। তাই একে ছায়াশূন্য বা শূন্য ছায়ার দিন বলা হয়। মনে রাখা জরুরি যে, ‘ছায়াশূন্য দিন’ মানে কিন্তু সারাদিন ছায়া থাকবে না, এমনটা নয়। কেবল নির্দিষ্ট ওই মুহূর্তেই (দুপুরের একটি নির্দিষ্ট ক্ষণ) ছায়া অদৃশ্য হয়ে যায়।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের জনসংযোগ ও শিক্ষা (SCOPE) বিভাগের প্রধান নিরুজ মোহন রামানুজন জানিয়েছেন, কর্কটক্রান্তি রেখা এবং মকরক্রান্তি রেখার মাঝখানে অবস্থিত বিশ্বের সব অঞ্চলেই বছরে দুবার এই শূন্য ছায়ার ঘটনা দেখা যায়। ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, কর্কটক্রান্তি রেখার নীচে অবস্থিত প্রায় সব রাজ্য এবং অঞ্চলেই এই বিরল দৃশ্য বছরে দুবার প্রত্যক্ষ করা যায়। বেঙ্গালুরু ছাড়াও চেন্নাই, ম্যাঙ্গালোর সহ দক্ষিণ ভারতের আরও অনেক শহরে এই ঘটনা দেখা যাবে।

রামানুজন আরও জানিয়েছেন, বেঙ্গালুরুর জন্য বছরে দুবার এই ছায়াশূন্য দিন আসে। সাধারণত এপ্রিল মাসের ২৪-২৫ তারিখে একবার এবং আবার অগাস্ট মাসের ১৮ তারিখে বেঙ্গালুরুতে এই ঘটনা ঘটে।

সুতরাং, আগামী বৃহস্পতিবার দুপুরে বেঙ্গালুরু সহ কর্কটক্রান্তি রেখার নীচে অবস্থিত বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এক বিরল মহাজাগতিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকার সুযোগ পাবেন। এই সময় বাইরে বেরিয়ে খালি চোখে প্রকৃতির এই অদ্ভুত দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা যেতে পারে।