লোকশিল্পী মণীন্দ্র বর্মনের পাশে ‘শুভেন্দু অধিকারী’, পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ তুলে ‘মমতা’-কে ওপেন চ্যালেঞ্জ !

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আজ কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে কোচবিহারের মাথাভাঙার লোকশিল্পী মণীন্দ্র বর্মনের পাশে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। মণীন্দ্র বর্মন সম্প্রতি চাকরিহারা শিক্ষকদের নিয়ে গান গেয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন। এই গানের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন, মণীন্দ্র বর্মনের উপর পুলিশি হয়রানি রাজ্য সরকারের নির্দেশে হচ্ছে। তিনি বলেন, “মণীন্দ্র বর্মন একজন লোকশিল্পী, যিনি সমাজের বাস্তব চিত্র তাঁর গানের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। কিন্তু তাঁর কণ্ঠকে দমন করতে পুলিশি হেনস্থার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের উপর আঘাত।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে বাকস্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে এবং শিল্পীদের মতো সাধারণ মানুষের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা চলছে।
এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “ক্ষমতা থাকলে মণীন্দ্র বর্মনের কেশাগ্র স্পর্শ করে দেখান। আমরা তাঁর পাশে আছি। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে লড়াই করব।” তিনি কোচবিহারের পুলিশ সুপারের উদ্দেশ্যেও এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
মণীন্দ্র বর্মনের গানটি সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির কারণে চাকরি হারানো শিক্ষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন। এই গানের পর থেকেই তিনি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন বলে অভিযোগ। শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা মানুষদের ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু আমরা এই অন্যায় মেনে নেব না।”
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে। দলের এক মুখপাত্র বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী রাজনৈতিক ফায়দা নিতে এই ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করছেন। পুলিশ নিয়ম মেনে তদন্ত করছে। এতে রাজনীতির কোনও জায়গা নেই।” তবে, এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তিনি মণীন্দ্র বর্মনের পাশে থাকবেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে যে কোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন। এই ঘটনা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।