গরুপাচার কাণ্ডে শুভেন্দুকে গ্রেফতার করা উচিত: বললেন কাটোয়ার তৃণমূল বিধায়ক

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গরুপাচার কাণ্ডের সঙ্গে যোক্ত করলেন কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় । পূর্ব বর্ধমান তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথের অভিযোগ করেন , গরুপাচার চক্রের মূলমাথা শুভেন্দু । এবং CBI উচিত তাঁকে গ্রেফতার করা। তিনি বলেছেন, “বীরভূমের পশুহাটে ভিনরাজ্যের গরু এসে জমা হত সেই গরুগুলো মুর্শিদাবাদ হয়ে লালগোলা বর্ডার দিয়ে বাংলাদেশে পাচার করা হত। সেই সময় মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলার তৃণমূলের দলীয় পর্যবেক্ষক ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই পাচার চক্রে তিনিও জড়িত।” শনিবার দুপুরে কাটোয়ার সংহতি মঞ্চে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

গরুপাচার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠাতেও রেগে ওঠেন কাটোয়ার তৃণমূল বিধায়ক। সীমান্ত পাহাড়ার দায়িত্বে থাকা BSF -এর ভূমিকা নিয়েও তিনি বলেছেন, “এই গরুপাচারের ব্যাপারে সব থেকে বেশি দাপাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। যদি গরুপাচার সত্যিই বেআইনিভাবে হয়ে থাকে, বিএসএফ জানে না? উত্তরপ্রদেশ সরকার জানে না? শুধু পশ্চিমবঙ্গ সরকার আর তৃণমূল জানে?“ এর পর শুভেন্দুকে আক্রমণ করে তিনি বলেছেন, “মুর্শিদাবাদ, মালদহ সীমান্তে দিয়ে গরু পাচার হয় সবথেকে বেশি। ওই দুই জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পর্যবেক্ষক হিসাবে তাঁর সব জানার কথা। সিবিআই কেন শুভেন্দু অধিকারীকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করল না? শুভেন্দু অধিকারী সব জানেন। শুভেন্দু অধিকারীকে জিজ্ঞাসা করলে গরু পাচারের সব তথ্য উঠে আসবে। সিবিআইয়ের উচিত শুভেন্দু অধিকারীকে গ্রেফতার করা।”

রবীন্দ্রনাথের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কাটোয়ার বিজেপি নেতা অনিল দত্ত । তৃণমূলের দুর্দিনের থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই কাটোয়ার বিধায়কের এই অভিযোগ বলে দাবি করেন তিনি । এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “শুভেন্দু অধিকারী পাচার করার সঙ্গে যুক্ত থাকলে তথ্য প্রমাণ দিয়ে আদালতে মামলা করুক। তাহলে দুধ কা দুধ পানি কা পানি হয়ে যাবে। আসলে জনগণ তৃণমূলকে ঘৃণা করছে। জনগণ তৃণমূলের এই চুরিকে প্রশয় দিচ্ছে না। তাই দৃষ্টি অন্য দিকে ঘোরাতে শুভেন্দু অধিকারীর নাম নিচ্ছেন বিধায়ক।”