হরিয়ানায় জমি বিক্রিতে আর্থিক অনিয়ম?-ইডি-র জিজ্ঞাসাবাদ, ‘জামাই’ ভাদরার পাশে নেই কংগ্রেস

হরিয়ানায় জমি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তদন্তের মুখে পড়েছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামী রবার্ট ভাদরা। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস দল ভাদরার পাশে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি দলের পক্ষ থেকে ইডির তদন্ত বা ভাদরাকে জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ জারি করা হয়েছে দলের উচ্চ নেতৃত্ব থেকে। বিজেপি ‘দামাদজি’ বলে খোঁচা দিলেও, আপাতত রবার্ট ভাদরাকে দলে নেওয়ার বিষয়ে কংগ্রেস হাইকমান্ডের কোনো আগ্রহ নেই বলেই জানা যাচ্ছে। সম্প্রতি দিল্লিতে ইডি সদর দফতরে তাকে টানা তিন দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ইডি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে যে তাকে আবার তলব করা হতে পারে।

যদিও কংগ্রেস হাইকমান্ড এই অবস্থান নিলেও, দিল্লিতে ইডি অফিসে হাজিরা দেওয়ার আগে পর্যন্ত রবার্ট ভাদরার পাশেই দেখা গেছে তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। তবে প্রিয়াঙ্কা এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সহ অন্যান্য বরিষ্ঠ কংগ্রেস নেতারাও ভাদরার ইডি জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করছেন। দলের সকল স্তরেই এই নীরবতা বজায় রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কংগ্রেসের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ কী? দলের এক প্রথম সারির নেতার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রবার্ট ভাদরার পরিচয় হলো তিনি দলের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামী, তিনি নিজে দলের সদস্য নন বা কোনো পদে কখনো ছিলেন না। তিনি একজন ব্যবসায়ী। স্বভাবতই, ইডির জেরা চলাকালীন একজন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়িয়ে অহেতুক বিতর্কে জড়াতে চাইছে না দল। আপাতত দলের নীতি হলো – আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে এবং ভাদরার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না।

গত লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন রবার্ট ভাদরা। এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছিলেন যে কংগ্রেস যদি তাকে প্রয়োজন মনে করে, তবে তিনি নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত এবং সংসদে দাঁড়িয়ে দেশের মানুষের হয়ে সত্যি কথা বলতে তিনি পিছপা হবেন না। যদিও গত জাতীয় নির্বাচনে তাকে কোনো টিকিট দেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি তিনি আবারও কংগ্রেসে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তখনও কংগ্রেস হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি, বরং নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি ভাদরাকে দলে নিতে একেবারেই আগ্রহী নয় কংগ্রেস? এই প্রশ্নের উত্তরে দলের ওই বরিষ্ঠ নেতার যুক্তি, এমনিতেই সারাবছর দলকে বিজেপির পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ মোকাবিলা করতে হয়। এই অবস্থায় ভাদরাকে দলে নিলে বিজেপির আক্রমণের ধার আরও বাড়বে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ইডির তদন্ত। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দল এমন কাউকে দলে নেওয়ার কথা ভাববে না, যাকে দলে নিলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক লাভের চেয়ে লোকসানের সম্ভাবনাই বেশি।