SSC-র যোগ্য-অযোগ্যদের লিস্ট আজ প্রকাশ্যে? চাকরিহারাদের মনে আজ চরম উত্তেজনা

স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) ২০১৬ সালের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে অনেক চাকরিহারা শিক্ষকের। সুপ্রিম কোর্ট ২৬ হাজারেরও বেশি প্রার্থীর ওই প্যানেল থেকে ‘চিহ্নিত অযোগ্য’ প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকিদের আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এর পরই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কমিশন কি আজ, অর্থাৎ সোমবার, ‘যোগ্য’ ও ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের সেই বহু প্রতীক্ষিত তালিকা প্রকাশ করবে?

কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু জানানো না হলেও শিক্ষক সংগঠন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে চরম কৌতূহল এবং অপেক্ষা বিরাজ করছে। যোগ্যদের তালিকা প্রকাশিত হলে একদিকে যেমন চাকরিহারা যোগ্য প্রার্থীরা নতুন করে আশার আলো দেখবেন, তেমনই অযোগ্যদের বিষয়টি সামনে আসায় প্রশাসনের উপর চাপ বাড়বে।

আজই তালিকা প্রকাশের প্রবল সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা সল্টলেকের করুণাময়ী থেকে কমিশন দফতর পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছেন। একই সঙ্গে কমিশনকে তাদের দাবিতে চাপ দেওয়ার জন্য এসএসসি দফতরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণাও করা হয়েছে।

এদিকে, ছাত্র সমাজ ও শিক্ষক সংগঠনগুলির ডাকা নবান্ন অভিযানের কর্মসূচি আপাতত রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর স্থগিত রাখা হয়েছে। আন্দোলনরত মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তালিকা প্রকাশের পরই তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

গত ১১ এপ্রিল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠকে এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমার শেষ দিন আজ, ২১ এপ্রিল। ফলে গোটা রাজ্যের চোখ এখন স্কুল সার্ভিস কমিশনের ঘোষণার দিকে।

উল্লেখ্য, এসএসসি ২০১৬ প্যানেলে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রায় ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বহাল রাখে। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষক ‘চিহ্নিত অযোগ্য’ এবং আদালত তাদের বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে। তবে শিক্ষক সংকটের কারণে যাতে স্কুলে পাঠদান ব্যাহত না হয়, তাই আদালত আপাতত ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত নন এমন শিক্ষকদের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আজকের দিনটি মামলা সংক্রান্ত পরবর্তী ঘটনাবলীর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।